টাঙ্গাইল পুলিশের রিজার্ভ অফিসে আরও-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উপ-পরিদর্শক ফরমান আলী, আরও-১ মুন্সি কনস্টেবল মাসুদ এবং প্রসিডিং শাখার কনস্টেবল আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৎ আচরণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় পেনশন, নিয়োগ, জেলার ভেতরে বদলি বাণিজ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে আইজিপি বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসে আরও-১ হিসেবে কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরমান আলী ১৩ বছর ধরে রয়েছেন। তার সঙ্গে কনস্টেবল মাসুদ ও আরিফুল ইসলামও রয়েছেন দীর্ঘ বছর ধরে। বারবার বদলি হলেও তারা অন্যত্র যোগদান না করে তদবির করে থেকে গেছেন একই কর্মস্থলে। ফলে দীর্ঘ বছরে গড়ে তুলেছেন নিজেদের রাজত্ব।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে আরও-১ ফরমান আলীকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়। একইসঙ্গে জেলার আরও কয়েকজনকে বদলি করা হয়। ৯৮৯ নম্বর রেঞ্জ আদেশে বলা হয়, তারা গত বছর ৭ নভেম্বরের মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে বদলিকৃত জায়গায় যোগদান করবেন অন্যথায় ৮ নভেম্বর তারা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হবে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট অনিয়মের অভিযোগে ডিএমপিতে বদলি করা হয় কনস্টেবল মাসুদ ও আরিফকে। অভিযোগে বলা হয়, তারা তিনজন মিলে দুর্নীতি আর অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
অনেক পুলিশ সদস্যদের নাম ও থানার নাম উল্লেখ করে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পছন্দের থানাগুলোতে বদলি করেছে ফরমান, মাসুদ ও আরিফ এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, বদলিকৃতরা প্রতিমাসে থানা থেকে রিজার্ভ অফিসে প্রতিমাসে টাকা দেয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, থানায় কর্মরত আওয়ামীপন্থি বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের ওসিরা প্রতিবেদন দিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করলেও আরও-১ ফরমান ও দুই কনস্টেবল টাকা নিয়ে ভাল জায়গায় বদলি করেন।
জানা গেছে, আরও-১ ফরমান আলী টাঙ্গাইলে চাকরির সুবাদে পুলিশ লাইন সংলগ্ন জেলখানা রোডের ছাপড়া মসজিদের উত্তর-পশ্চিমপাশে ৫ শতাংশ জমি কিনেছেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা শতাংশ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদস্যরা বলেন, একই জায়গায় একযুগ ধরে চাকরি করছেন ফরমান। মাসুদ ও আরিফও রয়েছেন দীর্ঘ বছর ধরে। অথচ তাদের বদলি হলেও অদৃশ্য কারণে সেখানেই রয়েছেন। ফলে তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলা কঠিন।
অভিযোগের বিষয়ে কনস্টেবল মাসুদ বলেন, কেউ শত্রুতা করে একটা অভিযোগ দিয়েছিল সেটা ভুয়া। তারপরও সেটার তদন্ত হয়েছে। তদন্তে আমাদের নামে কোনো সত্যতা পায়নি। আর যেহেতু আমরা ভালো কাজ করি তাই এসপি স্যার আমাদের রেখে দিছেন এক জায়গাতেই।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এ বিষয়ে জানতে মোবাইলে কনস্টেবল আরিফুল ইসলামে সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফরমান আলীর সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে বলতেই তিনি সরাসরি কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
সূত্র ও ছবি : দেশ টিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


