বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির নিম্নকক্ষ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আজ রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও দেশটির জনগণের মধ্যে গভীর ও স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতি জোর দেয়। এর মাধ্যমে আমাদের দুই দেশকে সম্পর্কের দৃঢ়তায় আবদ্ধ করে। শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের দৃঢ় অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশ ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার দ্বারা ঐক্যবদ্ধ। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশের তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে উত্তরণকে স্বাগত জানায়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই প্রতিনিধিত্বকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের বার্তাও এতে রয়েছে।
এদিকে ভারতের সংবাদমাধ্যম উইওনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু একই দিনে মুম্বাইয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক রয়েছে। এ কারণে তিনি তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের স্পিকার এবং শীর্ষ কূটনীতিককে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি নতুন সরকারের সঙ্গে দেশটির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। এই উদ্যোগ দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টা।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নেবে। বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বের চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকার ১৩ দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভূটান।
এদিকে বাংলাদেশের বিরোধী দল (জামায়াত-এনসিপি জোট) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া–এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ প্রায় ২০টি দেশের শীর্ষ নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


