জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই পরিবর্তনকে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখা হচ্ছে। শপথের পরপরই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ শীর্ষ নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের আশা প্রকাশ করেছেন। খবর দ্য ডন

Advertisement

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। সংসদ নির্বাচনে তার দলের বড় জয় দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান। দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দীর্ঘ অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত তৈরি পোশাক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলো পুনরুজ্জীবিত করার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এদিকে শপথ নেয়ার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং নির্বাচনে তার দলের ‘বিশাল জয়ের’ প্রশংসা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ের এক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ভূমিকাও উল্লেখ করা হয় এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

পৃথকভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশার কথা জানান। শেহবাজ বলেন, ‘পারস্পরিকভাবে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমি আমার ভাইয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ এবং অর্থপূর্ণ আলোচনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসা পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে তারেক রহমানকে শুভকামনা ও দোয়া জানানো হয়েছে। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।

এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। ইকবাল বলেন, সফল নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য তিনি ইউনূস ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশের স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

তিনি আরও জানান, আলোচনায় পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি নতুন ও অগ্রসর অধ্যায় শুরু করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ার ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সংযোগ ও সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।

ইকবাল সামাজিক উদ্যোক্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ড. ইউনূসের বৈশ্বিক অবদানের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যুব ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ গভীর সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ। এখন সময় এই সম্পর্ককে সুসংগঠিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, একাডেমিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় রূপ দেয়ার। সংযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যুবসমাজকে শক্তিশালী করা এবং স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়াই দুই দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.