বগুড়া শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেটের ভেতরেই অবহেলায় পড়ে আছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলীর কবর—যা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষেরই জানা নেই।

বগুড়া শহরের কেন্দ্রস্থলে, বর্তমান শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট (সাবেক আলতাফ আলী মার্কেট) চত্বরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়। ছবিতে দেখা দুটি কবরের একটি হলো অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী Mohammad Ali of Bogra-এর সমাধি। স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা প্রতিদিন এই কবরের পাশ দিয়ে চলাচল করলেও, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত নন অধিকাংশই।
কে ছিলেন মোহাম্মদ আলী অব বগুড়া?
মোহাম্মদ আলী অব বগুড়া (১৯০৯–১৯৬৩) ছিলেন পাকিস্তানের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। কূটনৈতিক জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তাঁর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা আলোচিত।
বগুড়া শহরে তাঁর বিশাল জমিদারি ও আবাসস্থল ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেটসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় একসময় তাঁর পরিবার মালিকানা ভোগ করত। তাঁর বসবাসের জন্য ছিল একটি বিশাল প্যালেস বা প্রাসাদ-সদৃশ বাড়ি।
প্যালেস থেকে প্লাজা
মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর তাঁকে তাঁর প্যালেসের পাশেই দাফন করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সম্পত্তির বড় অংশ দখল ও বিক্রি হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁর ঐতিহাসিক প্যালেসটি ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ওই জায়গার একটি অংশে নির্মিত হয় বহুতল ভবন Rana Plaza (স্থানীয়ভাবে পরিচিত), যা এখন বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কবরের বর্তমান অবস্থা
একসময় কবরের চারপাশ ঘেরা ছিল বলে জানান প্রবীণ বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। বর্তমানে সেই ঘেরাও নেই; বরং কবরের ভেতর দিয়েই চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটার উদ্দেশ্যে এই পথ ব্যবহার করছেন।
কবরের ওপর ফুলগাছ লাগানোর জন্য খোপ করা ছিল—এখন সেখানে নেই কোনো পরিচর্যা, নেই ফুলের গাছ। জন্মেছে আগাছা। ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সমাধিস্থল হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
ইতিহাস সংরক্ষণে প্রশ্ন
ইতিহাসবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমাধিস্থল সাধারণত সংরক্ষিত থাকে। অথচ বগুড়ার এই স্থাপনাটি কার্যত বাজারের ভিড়ে হারিয়ে গেছে। কোনো সাইনবোর্ড বা তথ্যফলক না থাকায় সাধারণ মানুষ জানতেও পারছেন না, এটি কার কবর।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, অন্তত একটি তথ্যফলক স্থাপন, চারপাশ সুরক্ষিতকরণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে জায়গাটিকে ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বগুড়ার বুকে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এই কবর কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমাধি নয়; এটি একটি সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের স্মারক। যথাযথ সংরক্ষণ ও সচেতনতা ছাড়া হয়তো একদিন এই চিহ্নও হারিয়ে যাবে ব্যস্ত বাণিজ্যিক উন্নয়নের ভিড়ে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


