সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জ-৩ (সদর–সাটুরিয়া) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আফরোজা খানম রিতার নাম ঘোষণার পর তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে অনৈক্যের সুর। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক রিতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় অধিকাংশ নেতাকর্মী সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও এতে অসন্তুষ্ট কিছু সিনিয়র নেতা মাঠে ভিন্নমুখী কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মানিকগঞ্জ সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা এবং সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন —এই দুই নেতা মনোনয়নের জন্য আগ্রহী ছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা জনসমর্থন, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে রিতাকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মনোনয়ন প্রত্যাশা করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর সবাইকে দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একতাবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত। ব্যক্তিগত বিরোধ বা অভিমানের কারণে দলের ভেতরে বিভাজন তৈরি হলে লাভবান হবে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি।
এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সম্প্রতি আতাউর রহমান আতা ও মোতালেব হোসেনকে আলাদাভাবে সভা-সমাবেশ করতে দেখা গেছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে জানান জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। তাদের দাবি, সিনিয়র নেতাদের এমন অবস্থান নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাবনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে দলটির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়—ঐক্য বজায় রাখা, অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে চলা এবং ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষে একযোগে কাজ করা। এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেয় কেন্দ্র। দলীয় নেতাদের মাধ্যমে জেলা–উপজেলায়ও একই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়ন ঘোষণা পরদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দল তাদের যথাযথ সম্মান ও দায়িত্ব দেবে।”
এ বিষয়ে আতাউর রহমান আতা বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, এই দলে একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। মনোনয়নের জন্য দলের হাইকমান্ডের কাছে আবেদন দিয়েছি। আমার নেতা তারেক রহমানের সাথেও এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ম্যাডাম জিয়ার মুক্তি ও দলের জন্য আমি অনেক আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি। আমাকে মনোনয়ন না দিলে আমার জেল খাটার মূল্য রইলো কোথায়? ২০১৮ সালে আফরোজা খানম রিতাকে মনোনয়ন দেয়ার পরও তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। হাইকমান্ডকে বলেছি, দলের জন্য আফরোজা খানম রিতার অনেক অবদান আছে। তাকে উচ্চকক্ষ বা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনের সুযোগ দেয়ার আহবানও জানিয়েছি। মনোনয়নের ব্যাপারে আমি এখনো নিরাশ নই, আমি চুড়ান্ত মনোনয়ন পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
মোতালেব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তা না পাওয়ায় তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মনোনীত প্রার্থীর হয়ে এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দলীয় মনোনীত প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন না করা এবং প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে না দেখা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মোতালেব হোসেন বলেন, “সামনে এখনো অনেক সময় আছে। আগে কিছু মান-অভিমান থাকলেও এখন আর নেই। অবশ্যই বিএনপি ও ধানের শীষের পক্ষেই কাজ করবো।”
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা বলেন, “যে কেউ দলের মনোনয়ন চাইতেই পারে। কিন্তু মনোনয়ন ঘোষণার পর ব্যক্তিগত অভিমান ভুলে সবাইকে দলের জন্য কাজ করা উচিত। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে আমি নিজে সিপাহী বিপ্লব দিবসের অনুষ্ঠানের আগে আতা সাহেব, মোতালেব ভাই এবং অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদকে ফোন করে অনুষ্ঠানে ডেকেছি। কিন্তু তারা কেউই সাড়া দেননি।”
নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচন সামনে রেখে যেকোনো বিভাজন ভুলে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



