জুমবাংলা ডেস্ক : বিএনপির বর্ধিত সভায় গৃহীত প্রস্তাবাবলী ও সিদ্ধান্ত সমূহত প্রকাশ করেছে দলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
সভায় গৃহীত প্রস্তাবাবলী ও সিদ্ধান্ত
১। এই সভা স্বৈরাচার বিরোধী দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী রাজনৈতিক দল সমূহের যুগপৎ এক দফা আন্দোলনের পথ ধরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করছে।
২। এই সভা মহান একুশে, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার/ফ্যাসীবাদবিরোধী দীর্ঘ ১৬ বছরের অবিরাম আন্দোলন এবং তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। এই সভা আহত, পঙ্গু, দৃষ্টিহীন ও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে এবং সকল প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়ন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানাচ্ছে। এই সভায় সকল আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও সহায়তাকারী দেশ-বিদেশে অবস্থানকারী সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই সভা একদফা আন্দোনের পথ ধরে ফ্যাসীবাদের পতনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছে।
৩। অনির্বাচিত-অবৈধ সরকার বিচারের নামে প্রহসন করে মিথ্যা অভিযোগে কারারুদ্ধ করবে তা নিশ্চিত জেনেও আপসহীনভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সাহসী নেতৃত্ব দিয়ে কারারুদ্ধ হয়ে এবং সেই অবস্থায় সরকারি ষড়যন্ত্রে ভুল চিকিৎসায় দারুণ অসুস্থ হয়েও বিএনপি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল সমূহকে নৈতিক শক্তি যুগিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূল প্রেরণা হিসেবে ভূমিকা পালন করায় এই সভা তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। বছরের পর বছর জোর করে কারারুদ্ধ রাখা কিংবা অন্যায়ভাবে বিদেশে সুচিকৎসা লাভে বাধ্য দিয়েও এই মহান দেশনেত্রীকে অন্যায়ের সাথে আপস করতে সরকার ব্যর্থ হয়ছে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষাসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তনের কারিগর গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশকে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ মুক্ত করে নিজে মুক্ত হয়েছেন। বিএনপি এবং এই দলের সকল স্তরের গর্বিত নেতা-কর্মীরা দেশনেত্রীর দ্রুত পূর্ণআরোগ্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছে। একইসাথে এই সভা দেশনেত্রীর কারারুদ্ধ ও দারুণ অসুস্থকালে তাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা ও সেবাদানকারী আত্মীয়-স্বজন চিকিৎসকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
৪। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য অবৈধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে কারারুদ্ধ করার পর দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ, বিএনপি ও অঙ্গদল-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যখন দেশ, দল ও জনগণের আন্দোলন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রন্থ তখন স্বৈরাচারী সরকারের নীপিড়নের শিকার হয়ে অসুস্থ অবস্থায় প্রবাসে থাকতে বাধ্য হওয়া দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অসীম সাহসিকতার সাথে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। যখন দলের চেয়ারপারসন মমতাময়ী মা কারাগারে, দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী যখন গুম, বন্দী, আহত ও সীমাহীন নিপীড়নের শিকার এবং একটি গণবিরোধ সরকার যখন রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে স্বাভাবিক রাজনীতির পথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে- তেমন এক কঠিন সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে তারেক রহমান দিন রাত অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে, যৌথ সিদ্ধান্তে দল পরিচালনা করে এবং দল ও অঙ্গ দল-সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যেভাবে দলকে সুসংহত ও আন্দোলনকে বেগবান করেছেন তা অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃষ্টান্ত। আন্দোলনকে সংহত, শক্তিশালী ও বিস্তৃত করে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডান-বাম-মধ্যডান-মধ্যবাম অসংখ্য রাজনৈতিক দলের ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ১ দফা দাবি আদায় করে ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা বাস্তবায়নের যুগপৎ আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন ও সফল ধারার সূচনা করে। এই যুগপৎ আন্দোলনের পথ ধরেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হাজারো ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়; অবৈধ সরকার প্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং ফ্যাসীবাদের পতন ঘটে। ফ্যাসীবাদবিরোধী এই গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি স্থাপন ও শক্তিশালী করণের মাধ্যমে বিজয়ী করার লড়াইয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৌশলী, সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রশংসা অর্জন করেছে।
দলের দুঃসময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে দলের কার্যক্রমকে শক্তিশালী, দলকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংহত করা, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি ফ্যাসীবাদ পতনে নিয়ামক ভূমিকা পালনের জন্য এই সভা তারেক রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। একইসাথে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রন্থ নেতা-কর্মীদের সহায়তার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি যে মানবিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন তার জন্যও এই সভা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে।
৫। এই সভা দৃঢ়ভাবে মনে করে, জনগণের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি, সাম্য ও সামাজিক ন্যায় বিচার সুপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন ২০৩০ এবং যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের সমর্থনে গৃহীত ও ২০২৩ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে ফ্যাসীবাদবিরোধী সকল দল/সংগঠনের সাথে মিলে অব্যাহতভাবে কাজ করা সময়ের দাবি।
ঐক্যমত্যে গৃহীত যে সব সংস্কার প্রস্তাব
সকল দল/সংগঠনের সাথে মিলে অব্যাহতভাবে কাজ করা সময়ের দাবি। ঐক্যমত্যে গৃহীত যে সব সংস্কার প্রস্তাব নির্বাচনের আগে বাস্তবায়ন সম্ভব তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং যে সব সংস্কারের জন্য আইন কিংবা সংবিধান পরিবর্তন প্রয়োজন তা নির্বাচিত জাতীয় সংসদে অনুমোদনের লক্ষ্যে পেশ করার জন্য এই সভা প্রস্তাব করছে।
৬। এই সভা মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের জনকল্যাণমূলক সকল দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের সাফল্য নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা এবং এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণকে তাদের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে সর্বাগ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা সকল গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব।
এই সভা দৃঢ়ভাবে মনে করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমেই শুধু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে থাকে। এই মৌলিক অধিকার থেকে এদেশের জনগণকে প্রায় দেড় যুগ বঞ্চিত রাখা হয়েছে। ফলে এই বঞ্চনার মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার কোন অজুহাত তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কাজেই এই সভা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে যথাশিগগির সম্ভব সর্বাগ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
৭। এই সভা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অযৌক্তিক ঊর্ধ্বগতির এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমবর্দ্ধমান অবনতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখ্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
সভা দৃঢ়ভাবে মনে করে, কৃষি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং আমদানীকৃত পণ্যাদির বাজারজাত করনে মধ্যস্বত্বভোগী আওয়ামী সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে সরকারি ব্যর্থতায় ক্রমবর্ধমান জনদুর্ভোগ দ্রুত দূর করা না হলে তা দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। ফ্যাসীবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং শ্রেণী-পেশার সংগঠনকে আস্থায় নিয়ে সম্মিলিতভাবে পতিত সরকারের সৃষ্ট ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের পাশা-পাশি অযৌক্তিক কারণে আন্দোলনের নামে জনজীবন বিপর্যস্তের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিশৃঙ্খলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণে সরকারি ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়।
৮। ফ্যাসীবাদী শাসনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন, গায়েবি মামলাসহ সীমাহীন গণবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল অবৈধ সরকার প্রধানসহ তার চিহ্নিত সহযোগিরা কিভাবে নির্বিঘ্নে দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং এখনো অসংখ্য অপরাধী অবাধে বিচরণ করছে তার একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এই সভ্য সরকারের কাছে দাবি করছে। একইসাথে সভা এই সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্য অভিযোগ থাকার পরেও তাদের বিচার ও শাস্তি দানে বিলম্বে ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছে। এই সভা মনে করে, বিদেশে অবস্থান করে যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও শান্তি-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের এবং তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কূটনৈতিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের আরো উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
একইসাথে এই সভা পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার এবং তাদের সহযোগী ১/১১’র সরকারের দায়ের করা সকল মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছে।
৯। আজকের এই বিশেষ বর্ধিত সভা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমের হাতে গড়া, আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে সমৃদ্ধ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ও অঙ্গদল, সহযোগী সংগঠন সমূহকে আরো ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী, কার্যকর ও জনপ্রিয় করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছে। এই সভা এই মর্মে ঐক্যমত পোষণ করছে, দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক অধিকারহীন, অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত ও মানবিকভাবে অবহেলিত জনগণকে তাদের কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মর্যাদায় ফিরিয়ে দেয়ার প্রধান দায়িত্ব দেশের সবচেয়ে বড়, নির্ভরযোগ্য এবং অতীতে বার বার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রদানকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের।
১০। বিএনপিকে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সভা দলের এবং সকল অঙ্গ দল ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের মাঝে সক্রিয় হওয়ার এবং কথা ও কাজে জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অর্জনের নির্দেশ দিচ্ছে। একইসাথে এই সভা দলীয় নীতি, আদর্শ, কর্মসূচি বাস্তবায়নে অবহেলা এবং দুর্নীতি-অনাচারসহ গণবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড ও আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকার জন্যও সকলকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করছে।
আজকের সভার প্রধান অতিথি গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সভার সভাপতি সময়ের সাহসী ও সফল নেতা তারেক রহমানের বক্তব্যের আলোকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ঘোষিত- ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’ এই আদর্শকে ধারণ করে এই সভা ‘ঐক্যেই শক্তি-ঐক্যেই মুক্তি’ এই আপ্তবাক্যকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দলের সৎ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে বিজয়ের পথে এগিয়ে চলার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করছে।
আজকের এই আয়োজনকে সফল করার জন্য যারা সীমাহীন পরিশ্রম করেছেন, নানাভাবে অবদান রেখেছেন, এই সভা তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।