২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ‘ব্লিংক টোয়াইস’ নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যা একসময় কেবল ক্ষমতা ও স্মৃতির লড়াইয়ের গল্প হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তা এখন রূপ নিয়েছে এক চাঞ্চল্যকর তত্ত্বে।

এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীরা দাবি করছেন, পরিচালক জো ক্রাভিটজ তার এই সিনেমায় বাস্তব জীবনের কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপের অন্ধকার জগৎকে তুলে ধরেছেন।
জো ক্রাভিটজ পরিচালিত এই সিনেমায় দেখা যায়, টেক বিলিয়নেয়ার স্লেটার কিং তার ব্যক্তিগত দ্বীপে একদল তরুণীকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে দিনভর চলে বিলাসিতা আর উৎসব। কিন্তু শিগগিরই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ফ্রিডা ও তার সঙ্গীরা লক্ষ করেন, তাদের শরীরে রহস্যময় আঘাতের চিহ্ন এবং তারা মাঝেমধ্যেই ব্ল্যাকআউট বা স্মৃতিভ্রমের শিকার হচ্ছেন।
পরে জানা যায়, দ্বীপের এক বিশেষ ফুল থেকে তৈরি পারফিউম ব্যবহার করে তাদের স্মৃতি মুছে ফেলা হচ্ছে, যাতে তাদের ওপর চলা যৌন নিপীড়ন তারা মনে রাখতে না পারেন। এই ঘটনাপ্রবাহই দর্শকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে এপস্টাইন আইল্যান্ডের সেই ভয়াবহ সব অভিযোগ।
ইন্টারনেটে এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া জেফরি এপস্টাইনের কিছু ই-মেইলকে কেন্দ্র করে। ২০১৫ সালের একটি ই-মেইলে দেখা যায়, এপস্টাইনকে ‘স্কোপোলামিন’ নামক একটি ড্রাগ সম্পর্কে তথ্য পাঠানো হয়েছিল। কলম্বিয়ার জঙ্গলে পাওয়া এক ধরনের উদ্ভিদ থেকে এটি তৈরি হয়, যা মানুষের বিচারবুদ্ধি লোপ করে তাকে দাসের মতো অনুগত করে ফেলে।
আরেকটি ই-মেইলে এপস্টাইন সরাসরি তার নার্সারিতে থাকা ‘ট্রাম্পেট প্ল্যান্ট’ সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায়, এই ট্রাম্পেট প্ল্যান্ট বা ‘ব্রুগম্যানসিয়া’ থেকেই স্কোপোলামিন তৈরি হয়। সিনেমায় ঠিক একইভাবে দ্বীপের ফুল ব্যবহার করে স্মৃতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দেখানো হয়েছে, যা কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ নেটিজেনরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, জো ক্রাভিটজ সম্ভবত এপস্টাইনের তালিকা ফাঁস করতেই এই সিনেমা বানিয়েছেন। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, সিনেমার সেই স্মৃতি মোছার ফুলের বিষয়টি আমি স্রেফ গল্প ভেবেছিলাম, কিন্তু বাস্তব তথ্যের সঙ্গে এর মিল দেখে শিউরে উঠছি।
আইএমডিবি-তে অনেক দর্শক সিনেমাটি মুক্তির পরপরই এপস্টাইন মামলার সঙ্গে এর মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। কিন্তু ই-মেইলে এই বিশেষ গাছের উল্লেখ পাওয়ার পর সেই আলোচনা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সিনেমাটি ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু জেফরি এপস্টাইন নন, উঠে এসেছে পিটার নাইগার্ডের নামও। বাহামায় নিজের ব্যক্তিগত দ্বীপে তরুণীদের প্রলুব্ধ করার অভিযোগে অভিযুক্ত নাইগার্ডকে ‘কানাডিয়ান এপস্টাইন’ বলা হয়। অনলাইনে অনেকেই দাবি করছেন, এই উচ্চবিত্ত মহলের অন্ধকার দিকগুলো সম্পর্কে পরিচালক জো ক্রাভিটজ অনেক গভীর তথ্য জানতেন, যা তিনি রুপালি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে কীভাবে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া হয়, ‘ব্লিংক টোয়াইস’ মূলত তারই একটি রূপক উপস্থাপন। তবে যেভাবে সিনেমার ড্রাগ বা স্মৃতি মোছার মেকানিজমের সঙ্গে বাস্তবের স্কোপোলামিন বা ট্রাম্পেট প্ল্যান্টের মিল পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—কল্পনা কি তবে বাস্তবকেই অনুকরণ করছে? সিনেমার স্লেটার কিং আর বাস্তবের এপস্টাইনদের জগৎ কি তবে একই সুতোয় গাঁথা? এই অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়েই এখন উত্তাল নেটদুনিয়া।
সূত্র: এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


