জাহিদ ইকবাল : রাজধানীর খিলক্ষেত থানা এলাকার নিকুঞ্জ-২ এর জামতলা এলাকায় শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে সংঘটিত হয়েছে একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের চারতলা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এমদাদুল হক সোহেল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামতলা এলাকার ১১৯/৫ হোল্ডিং নম্বরের একটি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল তার। ভবনটির চারতলায় নির্মাণকাজের জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার, পাইপলাইনসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষিত ছিল। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ভবনে প্রবেশ করে সেখানে রক্ষিত কমপক্ষে তিন লাখ টাকার বৈদ্যুতিক কারেন্টের তার এবং আরও প্রায় দুই লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
শনিবার সকালে শ্রমিকরা কাজে এসে মালামাল না দেখে প্রথমে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি খিলক্ষেত থানায় অবহিত করা হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
এ ঘটনায় বাড়ির মালিক এমদাদুল হক সোহেল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলিম বলেন, “চুরির ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জামতলা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন, ফাঁকা বাড়ি কিংবা রাতের বেলায় নির্জন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিপূর্বে পুরো নিকুঞ্জ ও জামতলা এলাকাজুড়ে সক্রিয় মাদক কারবারিদের একটি বিস্তারিত তালিকা এবং তাদের অবস্থানসহ কয়েকটি সম্ভাব্য ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তুলে ধরা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিষয়টি দেশের অসংখ্য গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সেই তালিকা প্রকাশ ও আলোচনার পরও দৃশ্যমানভাবে কোনো কার্যকর অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের মতে, মাদকচক্র ও অপরাধী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, জামতলা ও আশপাশের কিছু নির্জন স্থানে রাতে মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের আনাগোনা প্রায়ই দেখা যায়। এর ফলে এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় এসব স্থান অপরাধীদের সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান এবং সন্দেহভাজন অপরাধী চক্রের ওপর নজরদারি জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক এই চুরির ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা গেলে শুধু এই চুরির ঘটনারই সমাধান হবে না, বরং নিকুঞ্জ–জামতলা এলাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


