হঠাৎ করে শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়া—এ ধরনের সমস্যাকে আমরা অনেক সময় আলাদা আলাদা বিষয় বলে অবহেলা করি। কিন্তু এসব উপসর্গের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে থাইরয়েডজনিত জটিলতা।

গলার সামনের দিকে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। আকারে ছোট হলেও এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হরমোনের ভারসাম্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে থাইরয়েডের কার্যকারিতায় সামান্য গোলযোগ হলেও তার প্রভাব পড়ে পুরো শরীরজুড়ে।
বর্তমানে থাইরয়েডের সমস্যা অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। মূলত শরীরে থাইরয়েড হরমোন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম নিঃসৃত হলে এই সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই এর প্রধান চিকিৎসা হলেও, সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে সমস্যাটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
থাইরয়েড সমস্যার সাধারণ লক্ষণ
-অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়া
-হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়া
-বিপাকহার কমে গিয়ে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া
থাইরয়েডের স্থায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু উপকারী খাবার যোগ করলে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
যেসব খাবার থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
নারকেল: থাইরয়েডে আক্রান্তদের জন্য নারকেল উপকারী বলে মনে করা হয়। রান্নায় নারকেল তেল ব্যবহার বা কাঁচা নারকেল খাওয়া—দুটোই উপকার দিতে পারে। এতে থাকা মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড ও মিডিয়াম চেইন ট্রাইগ্লিসারাইড শরীরের বিপাকক্রিয়াকে সহায়তা করে।
আমলকি: ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এই ফলটি থাইরয়েড সমস্যায় বেশ কার্যকর। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কুমড়ার বীজ: হরমোনের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে জিঙ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুমড়ার বীজে জিঙ্কের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ব্রাজিল নাট: প্রতিদিন ২–৩টি ব্রাজিল নাট খেলে শরীরে সেলেনিয়ামের ঘাটতি পূরণ হতে পারে। সেলেনিয়াম থাইরয়েড হরমোনের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।
তবে মনে রাখতে হবে, খাদ্যাভ্যাসে এসব পরিবর্তন থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও এটি কখনোই চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে অবশ্যই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস


