পশ্চিম লিবিয়ার একটি শহর জিনতান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই শহরে নিজ বাড়ির বাগানে গুলিতে নিহত হয়েছেন সাইফ আল ইসলাম। দেশটির এক সময়কার প্রভাবশালী এই ব্যক্তি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছিলেন। যা পরে সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে বাতিল হয়। এর প্রায় ৮ বছর পর আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারালেন।

সাইফ আল ইসলাম (৫৩) লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে। তাঁর ফরাসি আইনজীবী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, গুলির ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনও জানা যায়নি। আর লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারজন হামলাকারী জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে। নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে লিবিয়ার জিনতান এলাকায় থাকতেন সাইফ। তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচন স্থগিত হয়। ১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া সাইফ মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র। ১৯৯৪ সালে ত্রিপোলির আল ফাতেহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রকৌশলে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ফ্রান্স ও কানাডায় এমবিএ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশ দুটি তাঁকে শিক্ষার্থী ভিসা দেয়নি। পরে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ইমাডেক বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং ২০০০ সালের দিকে সাইফ তাঁর বাবার ঘনিষ্ঠ মহলের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন। কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ না থাকলেও ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তাঁকে লিবিয়ার কার্যত প্রধানমন্ত্রী ও দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। এর মাঝে ২০০৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাইফ আল ইসলাম বাঘ পুষতেন। বাজপাখি দিয়ে শিকারও করতেন। লন্ডন সফরে গেলে মিশতেন ব্রিটিশ উচ্চবিত্ত সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে সাইফ কট্টর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার অঙ্গীকার করেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দমনে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, নির্যাতনে সহায়তা, পরিকল্পনা এবং নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও আনা হয়।
গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় টিভিতে দেওয়া এক ভাষণে সাইফ বলেছিলেন, ‘পুরো লিবিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে। এই দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে একমত হতে ৪০ বছর সময় লাগবে। কারণ সবাই প্রেসিডেন্ট বা আমির হতে চায়, দেশ চালাতে চায়।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
গাদ্দাফির পতনের পর সাইফ কয়েক মাস পলাতক ছিলেন। ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ লিবিয়ায় তিনি ধরা পড়েন। এরপর তাঁকে জিনতানের স্থানীয় মিলিশিয়াদের হেফাজতে রাখা হয়। ২০১৪ সালে ত্রিপোলিতে তাঁর বিচার শুরু হয়। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে লিবিয়ার একটি আদালত ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। প্রায় ছয় বছর বন্দি থাকার পর ২০১৭ সালে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের জারি করা সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


