আবির হোসেন সজল : জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান লালমনিহাটের এক বিশাল জনসভায় বলেছেন, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিষয়ে কারো রক্তচক্ষু জামায়াতে ইসলামী পাত্তা দেবে না বলে জানান তিনি। ড. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে, তাদের আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে লাল কার্ড দেখানো হবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় হেলিকপ্টারে করে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে পৌঁছে জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা নেয়ামত হওয়ার কথা থাকলেও তা আজ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। আমরা তিস্তাকে আবার জীবন দিতে চাই। তিস্তা হবে দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। নদীভাঙনের কবলে পড়ে কাউকে নিঃস্ব হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, মতলববাজ রাজনীতির কবর রচনার সময় এসে গেছে। গত ৫৪ বছরে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে, এখন তাদের বিদায় করার সময়। রাজনীতির নামে ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মামলাবাজির অবসান ঘটানো হবে। ১২ তারিখের নির্বাচনই নির্ধারণ করবে ১৩ তারিখের নতুন সূর্যের ভাগ্য। তরুণদের হাতেই বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে। বেকার ভাতা দিয়ে তরুণ সমাজকে অপমান করা হবে না।
জামায়াত আমীর বলেন, বুড়িমারি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করা হবে। বঞ্চিত অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের সূচনা হবে। আমরা বসন্তের কোকিল নই—বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালাব না। ফ্যাসিবাদীরা জনগণের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে দেশ ছেড়ে পালায়, মানুষ তা দেখেছে। আমরা ইহজগত ও পরজগত—উভয় জগতের বন্ধু হতে চাই।
তিনি বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। মাইনরিটি-মেজরিটি শব্দ থাকবে না। ভিন্ন ধর্মের মানুষকে বুকের চাদরে আগলে রাখা হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের বেতন উপযুক্ত না হওয়ায় দুর্নীতিতে জড়াতে হয়। নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, মায়ের গায়ে হাত উঠতে দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে জীবন দেওয়া হবে। নারীদের শ্রদ্ধার আসনে বসানো হবে এবং তারা সর্বত্র নিরাপদ থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলবেন। জামায়াতের বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই জনতার বিজয়।
জনসভা শেষে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাতজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমীর।
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ও লালমনিরহাট সদর-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এর আগে জামায়াত আমীর সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হেলিপ্যাড মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সকাল থেকে তিস্তা ব্যারাজ এলাকা জামায়াত-শিবিরসহ ১১-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। মিছিল নিয়ে পায়ে হেঁটে, অটোভ্যান, বাস ও ট্রেনে করে হাজারো মানুষ জনসভায় অংশ নেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


