পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে। চীনা সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত আছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলসেতু এলাকা এবং নিজপাড়া গাজীরহাট তিস্তা ১০ নম্বর ঘাট পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবতা যাচাই করে তা চীনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। চীন সরকার তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে—নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা। নদীর বাঁক ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ ই মি ইয়াও হোয়েন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সহযোগিতা প্রকল্পে কাজ করছে চীন। প্রকল্পটি যেন টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চীনা প্রকৌশলীরা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, এই বৃহৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনগণ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের সম্মিলিত সমর্থন প্রয়োজন। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম এবং কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া আক্তার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


