গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদে, শীতের শুষ্ক হাওয়ায়, কিংবা দৈনন্দিন দূষণে আমাদের ত্বক হারিয়ে ফেলে তার প্রাণবন্ত উজ্জ্বলতা। ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বা সিলেটের চা বাগানে কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত ত্বক যেন নিজের গল্প বলে। রূপচর্চার দোকানে রাসায়নিক ক্রিমের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার আগে একবার ভেবে দেখুন না, আপনার রান্নাঘরের তাকেই লুকিয়ে আছে ত্বক উজ্জ্বল করার প্রাকৃতিক উপায়ের অমূল্য ভাণ্ডার! দুধ, মধু, আলু, শসা – এসব সহজলভ্য উপাদান শতাব্দী ধরে আমাদের নানিদের রূপচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু শুধু প্রাচীন প্রথাই নয়, আধুনিক গবেষণাও স্বীকৃতি দেয় এসব উপাদানের ত্বক উজ্জ্বল করার ক্ষমতাকে। আসুন, জেনে নিই কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনবেন, সতর্কতার সাথে, বিজ্ঞানের আলোকে।
ত্বক উজ্জ্বল করার প্রাকৃতিক উপায়: বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে
“ত্বক উজ্জ্বল করা” বলতে আমরা বুঝি ত্বকের স্বাভাবিক প্রাণবন্ততা ও ঔজ্জ্বল্য ফিরে পাওয়া, মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ ও কোমল করা এবং ত্বকের অসম রং দূর করা। এটি একেবারেই ত্বকের রং পরিবর্তন করার সমার্থক নয়। প্রাকৃতিক উপায়গুলো মূলত কাজ করে:
- এক্সফোলিয়েশন: মৃত ত্বক কোষ সরিয়ে তাজা, উজ্জ্বল ত্বক উন্মুক্ত করে।
- ময়েশ্চারাইজেশন: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে শুষ্কতা ও নিস্তেজভাব দূর করে।
- অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট প্রোটেকশন: পরিবেশের দূষণ ও সূর্যালোকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
- প্রাকৃতিক ব্লিচিং: কিছু উপাদান অতিরিক্ত মেলানিন বা দাগের রং হালকা করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) এর বিভিন্ন গবেষণায় দেশীয় ফসলের (যেমন: দুধ, মধু, হলুদ) পুষ্টিগুণ ও ঔষধি বৈশিষ্ট্যের কথা বারবার উঠে এসেছে, যা ত্বকের যত্নেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
ত্বক উজ্জ্বল করতে কার্যকরী প্রাকৃতিক উপাদান ও ব্যবহার পদ্ধতি (H3)
- দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য (দই, মাঠা):
- কাজের পদ্ধতি: দুধে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, একটি প্রাকৃতিক আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড (AHA)। এটি মৃত কোষ দূর করে, ত্বকের টোন উন্নত করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। দুধের ফ্যাট ও প্রোটিন ত্বককে পুষ্টি ও আর্দ্রতা দেয়।
- ঘরোয়া প্যাক:
- সরল পদ্ধতি: কটন বল কুসুম গরম দুধে ভিজিয়ে পুরো মুখে আলতোভাবে মুছে নিন। ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- দই ও মধুর প্যাক: ১ টেবিল চামচ টকদইয়ের সাথে ১ চা চামচ কাঁচা মধু ভালো করে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার। (দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড এক্সফলিয়েট করে, মধু ময়েশ্চারাইজ করে ও ব্যাকটেরিয়ারোধী)।
- সতর্কতা: খুব সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি টকদই সামান্য জ্বালা করতে পারে। প্রথমে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নিন।
- মধু:
- কাজের পদ্ধতি: মধু একটি প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট, অর্থাৎ এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শুষে ত্বককে কোমল রাখে। এতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণ, যা ত্বকের ফ্রি র্যাডিক্যাল ড্যামেজ ও সংক্রমণ রোধ করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
- ঘরোয়া প্যাক:
- মধুর মাস্ক: পরিষ্কার, স্যাঁতসেঁতে ত্বকে কাঁচা মধু হালকা করে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চমৎকার ময়েশ্চারাইজিং ও উজ্জ্বলকারী।
- মধু ও দারুচিনি: ১ টেবিল চামচ মধুর সাথে আধা চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। রক্ত সঞ্চালন বাড়ানোর জন্য এটি ভালো, তবে সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
- সতর্কতা: নকল মধু ব্যবহার করবেন না। খাঁটি মধু ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
- হলুদ (হলুদ):
- কাজের পদ্ধতি: হলুদের প্রধান সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এটি ত্বকের প্রদাহ কমায়, দাগের উপশম করে এবং প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। বিভিন্ন গবেষণায় কারকিউমিনের ত্বক উজ্জ্বল করার সম্ভাব্য ভূমিকা উঠে এসেছে।
- ঘরোয়া প্যাক (বেসন ও হলুদ):
- ক্লাসিক উজ্জ্বলকারী প্যাক: ২ টেবিল চামচ বেসনের সাথে আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়ো ও প্রয়োজনমতো গোলাপজল/দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখ ও গলায় লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আলতো হাতে ঘষে ঘষে তুলে ফেলুন বা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেসন মৃত কোষ দূর করে, হলুদ উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সপ্তাহে ১-২ বার। [বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া ফেসপ্যাক।]
- সতর্কতা: হলুদ সাময়িকভাবে ত্বককে হলদে করে দিতে পারে (বিশেষ করে ফর্সা ত্বকে), যা পরে ধুয়ে যায়। অতিরিক্ত ব্যবহার বা শক্তিশালী হলুদ এড়িয়ে চলুন।
- শসা:
- কাজের পদ্ধতি: শসাতে প্রায় ৯৫% পানি থাকে, যা ত্বককে তাৎক্ষণিকভাবে আর্দ্র ও সতেজ করে। এতে আছে ভিটামিন সি ও কে, এবং ক্যাফেইক অ্যাসিড, যা ত্বকের জ্বালাপোড়া কমায়, ফোলা ভাব দূর করে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
- ঘরোয়া পদ্ধতি:
- শসার রস: শসা ব্লেন্ড করে রস বের করে নিন। এই রসে কটন বল ভিজিয়ে মুখ মুছুন বা সরাসরি স্প্রে করে দিন। রোদে পোড়া ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী।
- শসার স্লাইস: চোখের নিচে ফোলাভাব ও ডার্ক সার্কেল কমাতে ঠাণ্ডা শসার পাতলা স্লাইস চোখের ওপর ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
- সতর্কতা: সাধারণত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
- আলু:
- কাজের পদ্ধতি: আলুতে আছে ক্যাটালেজ নামক এনজাইম, যা ত্বকের দাগ ও অসম রং (হাইপারপিগমেন্টেশন) হালকা করতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়। এছাড়া আলুর স্টার্চ ত্বককে শান্ত করে।
- ঘরোয়া পদ্ধতি:
- আলুর রস: কাচা আলু কুচি করে ব্লেন্ড করুন বা ঘষে রস বের করুন। এই রস কটন বল দিয়ে ডার্ক স্পট বা পুরো মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে দাগ হালকা হতে পারে।
- আলু ও মধুর প্যাক: আলুর রসের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে লাগালে ময়েশ্চারাইজিং গুণও পাবেন।
- সতর্কতা: কারো কারো ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। প্রথমে পরীক্ষা করে নিন।
- পেঁপে:
- কাজের পদ্ধতি: কাঁচা পেঁপেতে আছে প্যাপেইন নামক এনজাইম, একটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েন্ট যা মৃত কোষ দূর করে ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে। এছাড়া পেঁপেতে আছে ভিটামিন এ, সি ও ই।
- ঘরোয়া প্যাক: পাকা পেঁপে থেঁতো করে বা ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। সরাসরি মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। বা কাঁচা পেঁপে ব্লেন্ড করে রস বের করে ব্যবহার করুন।
- সতর্কতা: পাকা পেঁপে সাধারণত নিরাপদ, কাঁচা পেঁপে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা করতে পারে।
ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহারে সতর্কতা ও জরুরী পরামর্শ (H3)
- প্যাচ টেস্ট: যে কোন নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে কনুইয়ের ভাঁজ বা কানের পিছনে সামান্য লাগিয়ে ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। কোন র্যাশ, লালভাব বা জ্বালাপোড়া না হলে তবেই মুখে ব্যবহার করুন।
- ধৈর্য ধরুন: প্রাকৃতিক উপায়ে ফল পেতে সময় লাগে। নিয়মিত ব্যবহার জরুরি। আশা করবেন না রাতারাতি চোখে পড়ার মত পরিবর্তন হবে।
- ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার: তৈলাক্ত ত্বকে দই, বেসন ভালো কাজ করে। শুষ্ক ত্বকে মধু, দুধ, অলিভ অয়েল উপকারী। সংবেদনশীল ত্বকে হালকা উপাদান (শসার রস, মধু) দিয়ে শুরু করুন, হলুদ বা দারুচিনি কম ব্যবহার করুন।
- তাজা উপাদান: প্যাক তৈরি করার পরপরই ব্যবহার করুন। সংরক্ষণ করে রাখা প্যাক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
- সূর্যের আলো: অনেক প্রাকৃতিক উপাদান (বিশেষ করে সাইট্রাস বা কিছু এনজাইম) ত্বককে সূর্যের প্রতি সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। ঘরোয়া ট্রিটমেন্টের পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন বা সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন।
- সুষম খাদ্য ও পানি: ত্বক সুস্থ রাখতে প্রচুর পানি পান করুন এবং ভিটামিন সি, ই, এ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার (শাকসবজি, ফল) খান। ত্বকের স্বাস্থ্য ভেতর থেকে গড়ে ওঠে।
- পরিষ্কার ত্বক: যে কোন প্যাক লাগানোর আগে ত্বক ভালোভাবে ক্লিনজিং করে নিন যাতে উপাদানগুলো ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।
- সীমাবদ্ধতা বুঝুন: ঘরোয়া পদ্ধতি হালকা থেকে মাঝারি সমস্যা (নিস্তেজতা, হালকা দাগ, শুষ্কতা) দূর করতে সাহায্য করে। গভীর দাগ, তীব্র পিগমেন্টেশন বা ত্বকের রোগের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে দৈনন্দিন রুটিন (H2)
ঘরোয়া প্যাক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক:
- মৃদু ক্লিনজিং: দিনে দুবার (সকালে ও রাতে) ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়া। কঠোর সাবান বা অতিরিক্ত ধোয়া ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে শুষ্কতা ও নিস্তেজতা ডেকে আনে।
- টোনিং (ঐচ্ছিক): ক্লিনজিংয়ের পর অ্যালকোহলমুক্ত টোনার ব্যবহার ত্বকের pH ব্যালেন্স ফিরিয়ে আনে ও পরবর্তী প্রোডাক্ট শোষণে সাহায্য করে। গোলাপজল একটি চমৎকার প্রাকৃতিক টোনার।
- ময়েশ্চারাইজিং: ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানো ত্বকের আর্দ্রতা আটকে রাখে। শুষ্ক ত্বকে ক্রিম, তৈলাক্ত ত্বকে জেল বা লোশন টাইপের ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন।
- সানস্ক্রিন – সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ!: বাইরে বের হওয়ার কমপক্ষে ১৫-৩০ মিনিট আগে SPF 30 বা তার বেশি, ব্রড-স্পেকট্রাম (UVA/UVB) সানস্ক্রিন পুরো মুখ, গলা, কান ও হাতে ভালো করে লাগান। সূর্যালোক ত্বকের কালো দাগ, বলিরেখা ও নিস্তেজতার প্রধান কারণ। একটি কথা মনে রাখবেন, রোদে পোড়া থেকে বাঁচানোই সবচেয়ে বড় “ত্বক উজ্জ্বল করার প্রাকৃতিক উপায়”। [বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) – সূর্যালোকের ক্ষতিকর প্রভাব]
- পর্যাপ্ত ঘুম: ত্বক রাতের বেলাই মেরামত হয়। ৭-৯ ঘন্টা গভীর ঘুম ত্বককে সতেজ ও উজ্জ্বল দেখায়।
- মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা: অতিরিক্ত স্ট্রেস ত্বকের নিস্তেজতা, ব্রণ ও বার্ধক্যের লক্ষণ বাড়াতে পারে। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন।
বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিকোণ: প্রাকৃতিক উপায়ের মূল্য ও সীমা (H2)
ঢাকার বিখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সামিনা চৌধুরী বলেন, “ঘরোয়া প্রাকৃতিক উপায় ত্বকের যত্নের একটি চমৎকার সংযোজন হতে পারে, বিশেষ করে মৃদু এক্সফোলিয়েশন ও ময়েশ্চারাইজেশনের জন্য। দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড, মধুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ – এসব বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত। তবে সবার ত্বক এক রকম নয়। যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, একজিমা, রোজেসিয়া বা তীব্র অ্যালার্জির ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও সমস্যা তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো যায়, কিন্তু ত্বকের প্রকৃত রং পাল্টানো যায় না, এবং তা স্বাস্থ্যকরও নয়। ত্বকের স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর কোন সমস্যা দেখা দিলে বা দাগ-ছোপ না কমলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।”
জেনে রাখুন (FAQs) (H2)
- প্রশ্ন: ত্বক উজ্জ্বল করার প্রাকৃতিক উপায়ে কত দিনে ফলাফল দেখা যাবে?
- উত্তর: প্রাকৃতিক উপায়ে ফলাফল ধীরে ধীরে আসে। সাধারণত নিয়মিত ৪-৬ সপ্তাহ ব্যবহারের পর উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এটি ত্বকের ধরন, সমস্যার তীব্রতা ও নিয়মিততার উপর নির্ভর করে। ধৈর্য ধরা জরুরি।
- প্রশ্ন: কোন ঘরোয়া উপায়ে ত্বক সবচেয়ে দ্রুত উজ্জ্বল হয়?
- উত্তর: “দ্রুত” ফলাফলের আশা প্রায়শই বিপজ্জনক রাসায়নিকের দিকে ঠেলে দেয়। তবে, মৃদু এক্সফোলিয়েশন (যেমন: দুধ বা দই দিয়ে মুছা) ও গভীর ময়েশ্চারাইজেশন (মধু বা অ্যালোভেরা জেল) দ্রুত ত্বককে সতেজ ও স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা দিতে পারে। সানস্ক্রিন ব্যবহার ত্বককে আরও দ্রুত ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে।
- প্রশ্ন: প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহারে ত্বক লাল হয়ে গেছে বা জ্বালা করছে, কী করব?
- উত্তর: সাথে সাথে প্যাক বা লাগানো উপাদান হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ঠাণ্ডা পানির কমপ্রেস বা অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে জ্বালা প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। পরবর্তীতে ওই নির্দিষ্ট উপাদান ব্যবহার বন্ধ রাখুন। জ্বালা-পোড়া বা র্যাশ তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোন প্রাকৃতিক উপাদানই সবার জন্য উপযুক্ত নয়।
- প্রশ্ন: ত্বক ফর্সা করার জন্য কোন প্রাকৃতিক উপায় সত্যি কাজ করে?
- উত্তর: একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: “ত্বক ফর্সা করা” অর্থাৎ ত্বকের প্রাকৃতিক রং পরিবর্তন করা, তা কোন প্রাকৃতিক বা নিরাপদ উপায়েই সম্ভব নয় এবং এটি কাম্যও নয়। প্রাকৃতিক উপায়গুলো ত্বকের স্বাস্থ্যকর উজ্জ্বলতা বাড়ায়, মৃত কোষ দূর করে, দাগ-ছোপ হালকা করে, ত্বককে মসৃণ ও কোমল করে। এতে ত্বক তার প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যকর রঙে আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়। ত্বকের প্রকৃত রং নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়াই সুস্থতার লক্ষণ।
- প্রশ্ন: রোদে পোড়া দাগ দূর করতে কোন প্রাকৃতিক উপায় ভালো?
- উত্তর: আলুর রস (ক্যাটালেজ এনজাইম), অ্যালোভেরা জেল (শীতল ও মেরামতকারী), ঠাণ্ডা শসার রস (শান্তকারী) এবং মধু (অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট) রোদে পোড়া দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভবিষ্যতে রোদে পোড়া এড়াতে নিয়মিত উচ্চ SPF সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
- প্রশ্ন: ঘরোয়া পদ্ধতি আর বাজারের কসমেটিকস – কোনটা ভালো?
- উত্তর: উভয়েরই নিজস্ব সুবিধা আছে। ঘরোয়া পদ্ধতি সাধারণত সস্তা, রাসায়নিক মুক্ত (যদি অর্গানিক উপাদান ব্যবহার করেন), এবং মৃদু। তবে এদের গুণমান ও কার্যকারিতা স্থির থাকে না, সংরক্ষণযোগ্য নয় এবং তীব্র সমস্যায় কার্যকর নাও হতে পারে। বাজারের ভালো মানের প্রোডাক্টগুলোতে সক্রিয় উপাদানের সঠিক ডোজ থাকে, বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত হতে পারে। আদর্শ পন্থা হতে পারে একটি ভালো মৌলিক রুটিন (ক্লিনজ, ময়েশ্চারাইজ, সানস্ক্রিন) মেনে চলা এবং সপ্তাহে ১-২ বার পুষ্টি ও উজ্জ্বলতার জন্য নির্বাচিত প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করা। ত্বকের সমস্যা গুরুতর হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শই শ্রেয়।
প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি কোনো জাদুর কাঠি নয়, বরং ধারাবাহিক যত্ন ও বোঝাপড়ার ফল। দুধের শান্ত স্পর্শ, মধুর মিষ্টি মমতা, হলুদের প্রাচীন জ্ঞান – এগুলো আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ, আমাদের নানী-দাদীদের কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ। তবে মনে রাখতে হবে, ত্বক উজ্জ্বল করার প্রাকৃতিক উপায়ের সাফল্য নির্ভর করে নিয়মানুবর্তিতা, ত্বকের ধরন বোঝা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ত্বকের মৌলিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার উপর। সূর্য থেকে সুরক্ষা, পর্যাপ্ত পানি আর পুষ্টিকর খাবার ছাড়া কোন প্যাকই চূড়ান্ত ফল দিতে পারবে না। আপনার ত্বক যেমনই হোক না কেন, তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে স্বীকৃতি দিন, সুস্থ রাখুন এবং প্রাণবন্ত উজ্জ্বলতাকে তুলে ধরুন। আজ থেকেই শুরু করুন আপনার ত্বকের জন্য প্রিয় একটি প্রাকৃতিক উপায়, গড়ে তুলুন একটি টেকসই রুটিন, আর দেখুন কিভাবে ফিরে আসে আপনার ত্বকের হারানো জেল্লা। ত্বকের যত্ন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, আত্মযত্নেরও একটি অপরিহার্য অঙ্গ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।