যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাময়িক বিরতি দিয়েছে রাশিয়া। এই বিরতি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

গত ৩০ জানুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, এই বিরতি যুদ্ধাবসান সংক্রান্ত আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে।”
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি পেসকভ। ইউক্রেনের সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনও হামলা থেকে বিরত থাকবে কি না— এসব প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে যান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ কোনো হামলা চালাবে না রুশ বাহিনী। সেখানে বর্তমানে তীব্র শীত চলছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং তিনি এতে সম্মত হয়েছেন। আমাদের আলোচনা ছিল খুবই চমৎকার।”
এদিকে, আগের দিন বুধবার ইউক্রেনের এক সংসদ সদস্য অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো দাবি করেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎখাতে হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে বর্তমানে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। ইউক্রেনের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রোববার থেকে তাপমাত্রা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
প্রসঙ্গত, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার জন্য কিয়েভের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই অভিযানে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা। সর্বশেষ গত ২৬ জানুয়ারি রাতভর রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে ইউক্রেনজুড়ে এক হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ ১২ লক্ষাধিক বাড়িঘর বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে এখনও দেশটির ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


