মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরান এই হুমকিকে ‘দুর্বল, ভারসাম্যহীন ও অযৌক্তিক’ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী কার্যক্রম চলতে থাকলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য তাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকি তার অসহায়ত্ব ও অস্থির মানসিকতারই প্রকাশ। এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সমঝোতায় আসার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন।
ট্রাম্প তার বার্তায় বলেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে বা ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে না দেয়, তাহলে তাদের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, সময়সীমা শেষ হলে ‘নরকের মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হবে।
এই হুমকির জবাবে ইরান জানায়, এই ধরনের বক্তব্য আসলে পাল্টা হুমকিরই সমান এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। আলিয়াবাদি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বরং বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এই পরিস্থিতি।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। তাই এই জলপথকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমঝোতা না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হতে পারে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে। এতে করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও অস্থিরতা আরও বেড়ে গেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


