জুমবাংলা ডেস্ক : তদারকির অভাবে রংপুরে ফের আলুর বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২১ টাকা বেশিতে কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি আলু। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত আলুর মজুত না থাকায় ক’দিন পর বাজারদর কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়– তা নিয়ে শঙ্কিত হিমাগার মালিকরাও।
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভরা মৌসুমেও প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। দেশীয় ছোট আলুর কেজি ৬০ টাকা ছাড়িয়েছে। ঈদের ছুটির পর প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। গত বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এই সময়ে আলুর কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা থাকার কথা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। অথচ সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ২৯ টাকা। সে নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। উৎপাদন অঞ্চলেই এমন দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর আলুর চাহিদা অনুযায়ী জোগান ছিল না। সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বাড়তি পরিবহন খরচ ও হিমাগার ভাড়া। লোকসান গুনতে হয়েছিল কৃষকদের। গত বছরের লোকসান পোষাতে এ বছর পরিপক্ব হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে আলু তুলে বিক্রি করেছেন অনেক কৃষক। এতে সবজিটির উৎপাদন কমেছে। চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টরে আলু উৎপাদন হয়েছে ২৮ দশমিক ৬০ টন; যা গত বছর হয়েছিল ৩০ দশমিক ১০ টন। অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি আলুর উৎপাদন ১ দশমিক ৫০ টন কমেছে।
জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু বলেন, কৃষকরা দক্ষিণাঞ্চলের হিমাগার মালিকদের কাছে বেশি দামে অপরিপক্ব আলু বিক্রি করেছেন। তাই স্থানীয় হিমাগারগুলো কাঙ্ক্ষিত আলু পায়নি। এখনও জেলার ৩০ শতাংশ হিমাগার ফাঁকা রয়েছে। ফলে আলুর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।
কৃষি বিভাগ জানায়, রংপুরের পাঁচ জেলায় এ বছর ১ লাখ ৬০২ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩৫৪ টন। গত বছর প্রায় ১২ হাজার টন আলু রপ্তানি হয়েছিল। এ বছর হয়েছে মাত্র ১৫০ টন। শতাধিক ব্যবসায়ী আলু কিনে কমিশনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেন। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিদিন অন্তত ২০ ট্রাক আলু শিপমেন্টের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। সেগুলো শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানি হয়। কিন্তু এবার দামও বেশি এবং মান অনুযায়ী আলুও মিলছে না। যার প্রভাব পড়েছে রপ্তানি বাণিজ্যেও।
সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করণী এলাকার আলু ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আলু চাচ্ছে। কিন্তু যে দাম দিতে চাচ্ছে, তা দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনতে পারছি না। এর পরও মার্চের শুরুতে ২৫ টন আলু সরবরাহ করেছি। তবে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলে রংপুর থেকে আলু রপ্তানি করা সম্ভব হবে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।