জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে। নতুন করে মামলা করা হবে না।”
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তবে ওই সময় ব্যক্তিগত, সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে তার বিচার হবে। এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। এরপর সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান আইন উপদেষ্টা।
এর আগে, ৮ জানুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের বীরদের ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে এবং তাদের প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসিফ নজরুল তার পোস্টে উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছেন। আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়েছিলেন, তার জন্য তাদের দায়মুক্তি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। উদাহরণ হিসেবে তিনি আরব বসন্তসহ সমসাময়িক কালের বিভিন্ন বিপ্লবের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের সুরক্ষায় এ ধরনের আইন করা হয়েছিল।
সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নজির অধ্যাদেশটির যৌক্তিকতা তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে এ ধরনের দায়মুক্তি আইনের স্পষ্ট বৈধতা রয়েছে।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে যা বললেন জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ
তিনি মনে করিয়ে দেন, “১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্যও অনুরূপ দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। সেই একই ধারায় এবার জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের সুরক্ষা দেবে রাষ্ট্র।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


