আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শরণার্থী ও আশ্রয়হীনদের জন্য গ্রিনকার্ডের আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি অভিবাসন প্রক্রিয়া কড়াকড়ি করে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে অভিবাসন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘গ্রিন কার্ড’ বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তারা কিছু শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের অভিবাসন প্রক্রিয়া ও গ্রিনকার্ড আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত করেছে। যা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ দেশ থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এতে প্রতারণা বন্ধ এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকির আওতাভুক্ত দেশ থেকে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীরাও বেশি প্রভাবিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ভেটিং তথা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আগত শরণার্থীদের জন্য আরেকটি দফা জটিলতা তৈরি করবে।
এই সিদ্ধান্ত দেশটিতে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পরিবারকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, যারা তাদের আত্মীয়স্বজনদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই ধরণের বাধা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সিস্টেমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে এবং ইউএসসিআইসি-এর আয়তেও প্রভাব ফেলতে পারে, যেহেতু এটি একটি ফি-ভিত্তিক সংস্থা।
এদিকে ট্রাম্প মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) নতুন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, এখন থেকে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে মার্কিন নাগরিকদের। ডাকযোগে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ।
মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ২০২০ সালের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি করে জিতেছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ওই নির্বাচনে ভুয়া ভোট পড়ার দাবিও করে আসছেন ট্রাম্প ও তার মিত্ররা। এবার ভুয়া ভোট বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নতুন নির্বাহী আদেশে ভোটারদের ভোট দিতে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এজন্য ভোট কেন্দ্রে জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট কিংবা পাসপোর্ট–যেকোনো একটি দেখাতে হবে। নির্বাহী আদেশে সই করার সময় হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ভুয়া ভোট আর খারাপ নির্বাচনের দিন শেষ হয়েছে। অসুস্থ পরিবেশ থেকে উত্তরণের এখনই সময়।
নির্বাহী আদেশে ডাকযোগে ভোটদানের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যেসব অঙ্গরাজ্য এ আদেশ মানবে না তাদের ফেডারেল তহবিল প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পরিসংখ্যা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১৪ কোটি ৬০ লাখের পাসপোর্ট নেই। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক, যারা ভোট দেওয়ার যোগ্য অর্থাৎ ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনো নথি নেই।
ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দাবি, প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ফলে পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথি না থাকা ব্যক্তিরা ভোটারাধিকার হারাবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।