বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বিবেচনায় একক এবং বড় রাষ্ট্র হিসেবে বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া একক দেশ হিসেবে ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশ এবং যুক্তরাজ্য রয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকার বাইরে আছে কানাডা এবং এশিয়ার বড় অর্থনীতি জাপান।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের বাজারে অতি নির্ভরতা থাকলে এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। কোনো কারণে সে দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সমস্যা হলে রপ্তানি কমে যেতে পারে, এমনকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এসব কারণে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে পণ্য এবং বাজার বৈচিত্র্য সৃষ্টির তাগিদ দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। কোনো কোনো বছর জার্মানি শীর্ষস্থানে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের গত অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানির ১৮ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বাড়ে ১৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৬০ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি তালিকায় প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাকের ওভেন, অর্থাৎ শার্ট-প্যান্ট জাতীয় পোশাক। ওভেন পোশাকের রপ্তানি ছিল ৪৯৫ কোটি ডলার। দেশটিতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানিতে ওভেনের অংশ ২৭ শতাংশ। তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটাগরির পণ্য অর্থাৎ গেঞ্জি ও সোয়েটার জাতীয় পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৬০ কোটি ডলার। নিটওয়্যারের অংশ ১২ শতাংশ। অন্য পণ্যের মধ্যে ক্যাপ বা টুপি জাতীয় পণ্য গেছে ২৬ কোটি ডলারের। হোমটেক্সটাইল রপ্তানি হয় ১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলারের।
ইইউ’র দেশ জার্মানি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় প্রধান গন্তব্য। গত অর্থবছর দেশটিতে ৫২৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ১০.৯৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মতো জার্মানিতে ওভেন প্রধান পণ্য নয়। দেশটিতে নিট পোশাক বেশি যায়। গত অর্থবছর নিট পণ্যের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০৬ কোটি ডলার। ওভেন পোশাকের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ডলার। জার্মানিতে অন্য বড় পণ্যের তালিকায় রয়েছে হোমটেক্সটাইল, ক্যাপ ইত্যাদি। সব মিলিয়ে গত অর্থবছর রপ্তানি বেশি হয় আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯.১১ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তৃতীয় প্রধান গন্তব্য যুক্তরাজ্য। ২০২০ সালের ৩১শে জানুয়ারি ইইউ জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যায় যুক্তরাজ্য, যাকে ব্রেক্সিট বলা হয়। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৃতীয় প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাজ্যে গত অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬২ কোটি ২৭ লাখ ডলার। এতে রপ্তানিতে দেশটির হিস্যা দাঁড়ায় ৯.৫৭ শতাংশ। অন্যান্য দেশের মতো সে দেশে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। পোশাকের নিট ক্যাটাগরির রপ্তানির পরিমাণ ২৬৬ কোটি ডলারের মতো। ওভেনের পরিমাণ ১৬৯ কোটি ডলার। পোশাকবহির্ভূত অন্য পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাইসাইকেল, হোমটেক্সটাইল ইত্যাদি। গত বছর দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩.২৩ শতাংশ বেড়েছে। আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৪৮ কোটি ডলার। বাংলাদেশের পণ্যের চতুর্থ শীর্ষ রপ্তানি বাজার স্পেন। গত অর্থবছর দেশটিতে রপ্তানি আয়ের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের কিছু বেশি। এই আয় বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৭.৩৬ শতাংশ। গত অর্থবছর নিট পণ্যের রপ্তানি আয় ছিল ১৯৫ কোটি ডলারের মতো। ওভেনের ছিল ১৪৫ কোটি ডলার। হোমটেক্সটাইল রপ্তানি হয় ৪ কোটি ডলার। চামড়া ও চামড়া পণ্য এবং পাদুকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রপ্তানি হয়ে থাকে।
ইইউ জোটের অপর দেশ ফ্রান্স বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের পঞ্চম শীর্ষ বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪২ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয় দেশটিতে, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৫ শতাংশ। ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানির প্রধান পণ্য হলো নিটওয়্যার। পোশাকবহির্ভূত অন্য পণ্যের মধ্যে হোমটেক্সটাইল রপ্তানি হয় ৯ কোটি ডলারের মতো। ফুটওয়্যার বা পাদুকা রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ডলার।
নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের ষষ্ঠ প্রধান রপ্তানি বাজার। গত অর্থবছর দেশটিতে ২৩৫ কোটি ৪২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা ওই অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৪.৮৮ শতাংশ। এই আয় আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
ইতালি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সপ্তম প্রধান আমদানিকারক দেশ। গত অর্থবছর দেশটিতে যায় ১৬৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের বিভিন্ন পণ্য। এই আয় বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৩.৪৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রচলিত বাজার কানাডা। রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে দেশটির অবস্থান অষ্টম। গত অর্থবছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৩.০৩ শতাংশ এসেছে কানাডা থেকে। পরিমাণ ছিল ১৪৬ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের চেয়ে ১১.২৬ শতাংশ বেশি। ওই অর্থবছর রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল ১৩২ কোটি ডলারের মতো।
জাপান বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের নবম প্রধান বাজার। এশিয়ার মধ্যে প্রথম। গত অর্থবছর জাপানে রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল ১৪১ কোটি ডলারের কিছু বেশি, যা ওই অর্থবছর বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ২.৯২ শতাংশ। আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে রপ্তানি বেশি হয়েছে ৭.৪৮ শতাংশ।
ইইউ জোটভুক্ত দেশ বেলজিয়াম বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দশম রপ্তানি বাজার। গত অর্থবছর দেশটিতে রপ্তানি হয় ৭৩ কোটি ডলারের পণ্য। এই আয় বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ১.৫১ শতাংশ। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেলজিয়ামে রপ্তানি বেশি হয়েছে ১১ শতাংশের মতো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।