নিখোঁজ থাকার এক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো শহরের রাস্তায় প্রায় অন্ধ আরাকান রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমকে (৫৬) মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এর আগে তিনি বাফেলো ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার পুলিশের বরাতে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, মৃতদেহটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের একটি রাস্তায় পাওয়া যায়।
শাহ আলম নিখোঁজ হন ১৯ ফেব্রুয়ারি, যখন বর্ডার প্যাট্রোলের এজেন্টরা তাকে জেলের বাইরে বাড়ি থেকে মাইল দূরের একটি কফি শপে ছেড়ে দেন। তিনি গত এক বছর জেলে ছিলেন, যেখানে ছোট অপরাধের মামলার পর একটি মিসডিমিনার পলিসি ডিলের মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছিলেন।
বাফেলো মেয়র শন রায়ান বলেছেন, এই মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল এবং এটি ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অমানবিক ও অপেশাদার সিদ্ধান্তের ফল। প্রায় অন্ধ এবং ইংরেজি বলতে অক্ষম একজন একজন দুর্বল মানুষকে শীতের রাতে একা ফেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাকে নিরাপদ স্থানে রাখার কোনো চেষ্টা করা হয়নি।
বর্ডার প্যাট্রোলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এজেন্টরা শাহ আলমকে একটি কফি শপে ছেড়ে দিয়েছিলেন, যা তার শেষ পরিচিত ঠিকানার কাছে উষ্ণ ও নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এজেন্টরা দাবি করেছেন, তিনি কোনো শারীরিক অসুবিধা বা চলাফেরায় সমস্যা প্রদর্শন করেননি।
শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল জানিয়েছেন, তার বাবার আটক মূলত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে। তার বাবা ইংরেজি বলতে পারতেন না এবং হাঁটার জন্য একটি পর্দার রড ব্যবহার করতেন। ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ফয়সাল আরও বলেন, মুক্তির পর কোথায় তাকে ফেলে দিয়েছে, তা আমাদের পরিবার বা আইনজীবীকে কেউ জানায়নি। তিনি লিখতে বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারতেন না। তিনি কেবল ঘরের খাবার খেতে এবং পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে চেয়েছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


