যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছে, যা একটি ওপেকভুক্ত দেশের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা কমার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার বা ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ২৮ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ ডলার বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬৩ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে।
এর আগের লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দাম বেড়ে যায়। তখন ব্রেন্ট ক্রুড ছয় মাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায় এবং ডব্লিউটিআই সেপ্টেম্বরের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল।
নিউক্লিয়ার চুক্তিতে সম্মত না হলে বা বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না করলে ইরানের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে গত শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” করছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, আলোচনার প্রস্তুতি চলছে।
ট্রাম্প বলেন, আমি আশা করি তারা একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাবে। এমন একটি সমঝোতা সম্ভব, যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক মহড়া চালানোর পরিকল্পনা নেই—এমন খবরে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত মিলেছে।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, বাজার এটিকে সংঘাত থেকে সরে আসার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ফলে গত সপ্তাহে দাম বাড়ার সময় যে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব দামে যুক্ত হয়েছিল, তা কমে গেছে এবং বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।
এদিকে রোববার ওপেক প্লাস জোট মার্চ মাসের জন্য তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মৌসুমি কারণে চাহিদা কম থাকায় তারা জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও স্থগিত রেখেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
অন্যদিকে ক্যাপিটাল ইকোনমিকস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলেও তেলবাজারের মৌলিক পরিস্থিতি এখনও দুর্বল। গত বছরের ইসরায়েল–ইরান সংঘাতের অভিজ্ঞতা এবং পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের কারণে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দামে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


