মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ৪৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কাছে তেহরান তাদের পাঁচ দফার নিজস্ব শর্তাবলী দিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক জবাব জমা দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো সাময়িক সমাধান নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানে অনড়।

স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও মার্কিন ঘাঁটি অপসারণ: ইরানের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো, মধ্যপ্রাচ্যের সবকটি ফ্রন্টে—বিশেষ করে লেবানন ও গাজায় চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। এই যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দাবি করেছে তেহরান। এর পাশাপাশি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। তেহরানের মতে, এই অঞ্চলে বিদেশী সামরিক উপস্থিতিই অস্থিরতার মূল কারণ।
হরমুজ প্রণালীতে সার্বভৌমত্ব ও টোল আদায়: সবচেয়ে চমকপ্রদ ও বিতর্কিত দাবিটি হলো হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। ইরান একটি নতুন ‘ট্রানজিট প্রোটোকল’ বাস্তবায়নের দাবি করেছে, যেখানে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃত হবে। এই প্রোটোকল অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান সরাসরি ‘টোল’ বা মাশুল আদায় করার অধিকার পাবে। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর তেহরানের প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পরমাণু অধিকার: ইরান তাদের ওপর আরোপিত সব ধরণের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেয়ার শর্ত দিয়েছে। এছাড়া, পারমাণবিক অস্ত্রপ্রসার রোধ চুক্তি এবং জাতিসংঘ সনদের অধীনে নিজেদের ভূখণ্ডে শান্তিপূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সহজাত অধিকারের স্বীকৃতি চেয়েছে দেশটি। তারা সোজা জানিয়ে দিয়েছে যে, এই অধিকার নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।
ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা: যুদ্ধের কারণে ইরানের যে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই পাল্টা জবাবে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি বা আল্টিমেটামের সামনে তারা মাথা নত করতে রাজি নয়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ইরানের এই কঠোর শর্তাবলী ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবে তেহরানের এই পাল্টা চাল যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে এক জটিল মোড়ে ঠেলে দিল। এখন বিশ্ববাসীর নজর পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


