দেশের বাজারে ন্যায্য মূল্য না থাকায় এবারের কোরবানির পশুর চামড়াও ভারত সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যশোরের বেনাপোল সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান (অ্যালার্ট) নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহার দিন বিকেলে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চামড়ার বাজারে চরম হতাশা দেখা গেছে। চামড়া পাচার রুখতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি পুলিশের টহলও বেশ জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের সব গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোরবানির পর যতদিন পর্যন্ত চামড়া পাচারের ঝুঁকি বা আশঙ্কা থাকবে, ততদিন এই বাড়তি নিরাপত্তা ও বিশেষ নজরদারি জারি থাকবে।
তথ্য অনুযায়ী, সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও মাঠপর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন নেই। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা প্রকৃত দাম পাচ্ছেন না।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত দামের সাথে বাস্তব বাজারের মূল্যের কোনো মিল নেই। বাধ্য হয়ে অত্যন্ত কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।
দেশের বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায়, বেশি লাভের আশায় অনেকেই গোপনে পাচারকারীদের হাতে চামড়া তুলে দিতে প্রলুব্ধ হচ্ছেন।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গরুর চামড়ার দাম বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। এই বাড়তি লাভের লোভেই প্রতিবছর কোরবানির সময় সীমান্ত গলিয়ে চামড়া পাচারের চেষ্টা চলে। তবে এবার যেন কোনোভাবেই চামড়া ওপারে না যেতে পারে, সে বিষয়ে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার আঢ্য জানান, চামড়া পাচার প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুলিশও কাজ করছে। সীমান্ত শহরের নিরাপত্তা ও টহল ব্যবস্থা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
এদিকে চামড়া শিল্প খাত সূত্রে জানা গেছে, দেশের ট্যানারি মালিকরা চলতি বছর প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ লাখ পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



