মার্কিন বাহিনী গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি সামরিক অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। পরদিন সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি আটককেন্দ্রে বন্দী রয়েছেন বলে জানা গেছে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।

মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে—এমন মন্তব্য করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব তার হাতেই রয়েছে।
তবে মঙ্গলবার দেলসি রদ্রিগেজ এ দাবি নাকচ করে বলেন, “ভেনেজুয়েলা কোনো বিদেশি শক্তি দ্বারা শাসিত নয়। দেশটি পরিচালনা করছে ভেনেজুয়েলার নিজস্ব সরকার।”
৫৬ বছর বয়সী দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে তার যোগাযোগের জন্য পরিচিত। প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণের পর সংবিধান অনুযায়ী তিনিই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।
ভেনেজুয়েলার সংবিধানের ২৩৩ ও ২৩৪ ধারা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সাময়িক বা স্থায়ীভাবে অনুপস্থিত থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্টই রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। এই সাংবিধানিক বিধানের ভিত্তিতেই দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টও তাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়।
দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেলসি রদ্রিগেজ একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ও তেলমন্ত্রীর পদেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এদিকে মঙ্গলবার রাজধানী কারাকাসে দেলসি রদ্রিগেজের সমর্থনে বিশাল নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সমর্থনে ভেনেজুয়েলার মাদকবিরোধী বাহিনীর সদস্যরাও মিছিল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতেও এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখা যায়। সেখানে এক বিক্ষোভকারীর প্ল্যাকার্ডে ট্রাম্পের ছবির নিচে লেখা ছিল, “যেমন দেখায়, তেমনই অযোগ্য।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


