সোনাকে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ধাতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান সময়ে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে সোনার দাম যখন আকাশচুম্বী, তখন ভেনেজুয়েলায় সোনার দাম আশ্চর্যজনকভাবে সস্তা। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, ভেনেজুয়েলায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ভারতের এক কাপ চা বা কফির চেয়েও কম। ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির এক করুণ প্রতিফলন।

ভেনেজুয়েলায় সোনার দাম এতটাই কম যে, এটি এক গ্লাস দুধ বা সামান্য জলখাবারের দামের চেয়েও সস্তা বলে জানা গেছে।
যেখানে ভারতীয়রা সোনার রেকর্ড দামের কারণে এটি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা সাধারণ মুদি পণ্যের সমান দামে এই মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ করতে পারছেন।
ভেনেজুয়েলায় সোনার এই অবিশ্বাস্য কম দাম কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা প্রাচুর্যের কারণে নয়। এর প্রধান কারণ হল ভেনেজুয়েলার মুদ্রা ‘বলিভার’-এর ব্যাপক হ্রাস।
ভেনেজুয়েলায় বছরের পর বছর ধরে মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রার সংকটের সাথে লড়াই করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে।
বিভিন্ন তথ্যে জানা যায় যে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর শাসনকালে বিপুল পরিমাণ সোনা বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে
২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রায় ১১৩ মেট্রিক টন সোনা সুইজারল্যান্ডে পাঠানো হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায়।
সরকারি ঋণ পরিশোধ এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে সরকার সোনার রিজার্ভ ব্যবহার করেছে, যার ফলে সরকারি মজুতও কমেছে।
২০২৪ সাল নাগাদ ভেনেজুয়েলার ভাণ্ডারে মাত্র ১৬১ টনের মতো সোনা অবশিষ্ট আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হওয়া সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলা চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার রয়েছে এই দেশে।
এছাড়া দেশটির ‘ওরিনোকো মাইনিং আর্ক’ অঞ্চলে প্রায় ৮,০০০ টন সোনা এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটি।
এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য খারাপ খবর যে, ভেনেজুয়েলার তেলের বাজারে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব মার্কিন তেল সংস্থাগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ওই দেশকে ‘বিনিয়োগের অযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
সোনা অত্যন্ত সস্তা হলেও সাধারণ ভেনেজুয়েলানদের জীবনযাত্রায় এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই।
এই সস্তা সোনা সাধারণ মানুষের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারছে না কারণ অর্থনীতি দুর্বল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেশি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন।
অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ
যেখানে এক গ্লাস দুধের চেয়েও সোনা সস্তা, সেখানে একজন সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ভেনেজুয়েলায় দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


