সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে ভাইরাল হওয়া অ্যালবিনো মহিষটি শেষ পর্যন্ত কোরবানির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিরল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই প্রাণীটিকে সংরক্ষণের জন্য জাতীয় চিড়িয়াখানায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি শব্দ অ্যালবিনো। বিরল এই জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই মহিষটি নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল, আলোচনা ও বিতর্ক।
কী এই অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনিজম একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে প্রাণীর শরীরে ‘মেলানিন’ নামের রঞ্জক পদার্থ খুব কম তৈরি হয় অথবা একেবারেই তৈরি হয় না। এই মেলানিনই মূলত চামড়া, লোম ও চোখের স্বাভাবিক রং নির্ধারণ করে।
মেলানিনের ঘাটতির কারণে অ্যালবিনো প্রাণীর শরীর সাধারণত সাদা, ফ্যাকাশে বা গোলাপি আভাযুক্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে চোখ লালচে বা হালকা গোলাপি দেখায়।
কেন এত বিরল?
জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গবাদিপশুর মধ্যে অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত বিরল। ধারণা করা হয়, হাজার বা এমনকি দশ হাজার প্রাণীর মধ্যে একটি ক্ষেত্রে এ ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখা যেতে পারে।
বন্য পরিবেশে অ্যালবিনো প্রাণীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তাদের শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক না থাকায় সূর্যের আলো, রোগ বা শিকারির আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা কম হতে পারে। ফলে অনেক প্রাণী দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে না।
গবেষণায় কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অ্যালবিনো প্রাণী শুধু বিরল বলেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, জেনেটিক গবেষণার ক্ষেত্রেও এদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গবেষকরা মনে করেন, এ ধরনের প্রাণী থেকে জিনগত পরিবর্তন, বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণীর অভিযোজনক্ষমতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
কেন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত?
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন বিরল বৈশিষ্ট্যের প্রাণী সাধারণ কোরবানিতে ব্যবহার না করে সংরক্ষণ করা বেশি যুক্তিযুক্ত। এতে প্রাণীটি বেঁচে থাকবে, পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষা ও জনসচেতনতার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



