বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, যানজট কমানো এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। অনলাইন ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। “বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়” শীর্ষক এই সেমিনার আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সেমিনারে উঠে আসে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট চাপের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে অনলাইন পাঠদান আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। করোনাকালে দেশে যেভাবে অনলাইন শিক্ষা ব্যবহৃত হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথাও আলোচনায় আসে।
অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লাইভ বা ভার্চুয়াল ক্লাস ব্যবস্থা। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে পাঠদান সম্পন্ন করেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো জুম। এই প্ল্যাটফর্মে অনেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে ক্লাসে অংশ নিতে পারে, পাশাপাশি স্ক্রিন শেয়ার, ভার্চুয়াল হোয়াইটবোর্ড এবং ক্লাস রেকর্ড করার সুবিধা রয়েছে। চ্যাট ও হাত তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারে।
আরেকটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম গুগল মিট, যা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো জটিলতা নেই। একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকলেই সহজে ক্লাসে যুক্ত হওয়া যায়। কম স্টোরেজের ডিভাইসেও এটি ভালোভাবে কাজ করে।
বড় পরিসরের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য মাইক্রোসফট টিমস ব্যবহৃত হয়, যেখানে ভিডিও ক্লাসের পাশাপাশি ফাইল শেয়ার, চ্যাট এবং দলগত কাজের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া গুগল ক্লাসরুম ব্যবহার করা হয় অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া, নোটিশ প্রকাশ এবং লেকচার শেয়ার করার জন্য। শিক্ষকরা সহজে ক্লাস তৈরি করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কাজ জমা দিতে পারে।
শিক্ষার্থীদের হাতে লেখা নোট বা অ্যাসাইনমেন্ট দ্রুত ডিজিটাল ফাইলে রূপান্তরের জন্য ক্যামস্ক্যানার অত্যন্ত কার্যকর একটি অ্যাপ। এটি ছবি তুলে পরিষ্কার পিডিএফে রূপান্তর করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে ক্যানভা শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। প্রেজেন্টেশন, প্রজেক্ট ও ডিজাইন তৈরিতে এর টেমপ্লেট ব্যবহার করে সহজেই পেশাদার মানের কাজ করা যায়, যার জন্য কোনো বিশেষ ডিজাইন দক্ষতার প্রয়োজন হয় না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


