ভোটাধিকার কেবল নাগরিক অধিকার নয়, এটি ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। এটি সঠিক ব্যক্তির হাতে দেওয়ার নৈতিক দায়িত্বও বটে। যদি ভোট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে বিক্রি বা ব্যবহার করা হয়, তবে তা ইসলামের নীতি ও দ্বিনদার শিক্ষার পরিপন্থী। ভোটদানের দ্বিনি দায়িত্বে অবহেলা দেশের ক্ষতি এবং সমাজের অধঃপতনের পথ প্রশস্ত করে।

ভোট: নৈতিক ও দ্বিনদার দায়িত্ব
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারকে প্রত্যর্পণ করতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে।” (সুরা: নিসা, আয়াত: ৫৮)
এ থেকে স্পষ্ট, ভোটের সময় ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে অনৈতিক মনে করা হয়। যদি ভোটারের মনোভাব শুধুই স্বার্থপর হয়, তবে দেশ থেকে দুর্নীতি, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও অবাধ্যতা দূর করা অসম্ভব হয়ে যায়।
ভোট বিক্রি বা অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভোট বিক্রি একটি সাধারণ সমস্যা। সামান্য অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন করা ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুষ বা বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য। কোরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনরা! জেনেশুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাস ভঙ্গ করো না।” (সুরা: আনফাল, আয়াত: ২৭)
সুপারিশ ও সাক্ষ্যের গুরুত্ব
কোনো প্রার্থীর পক্ষে মিছিল করা, ভোট চাওয়া বা সুপারিশ করা মানে হলো সাক্ষ্য দেওয়া। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া গুরুতর পাপ, কিন্তু যোগ্য প্রার্থীকে সুপারিশ বা ভোট দেওয়া সুসংবাদ ও সওয়াবের কাজ। কোরআনে উল্লেখ আছে, “কেউ কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করলে তার অংশ থাকবে এবং কেউ কোনো মন্দ কাজে সুপারিশ করলে তার অংশ থাকবে। আল্লাহ সর্বদা নজর রাখেন।” (সুরা: নিসা, আয়াত: ৮৫)
প্রার্থীর দ্বিনদারি ও যোগ্যতা বিবেচনা
ভোটের সময় প্রার্থীর যোগ্যতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও দ্বিনদারিত্বকে প্রধান বিবেচনা করা উচিত। যারা ইসলাম, দ্বিন বা সমাজের কল্যাণের প্রতি উদাসীন বা বিদ্রোহী, তাদের ভোট দেওয়া যাবে না। ভোটের মাধ্যমে আমরা উকিল নিযুক্ত করি; তাই প্রার্থী যদি অযোগ্য হয়, তবে ভোটারও তার ভুলের জন্য দায়ী থাকবেন।
ভোটদান একটি দ্বিনদার দায়িত্ব
দ্বিনদার মুসলিমদের জন্য ভোট দেওয়া শুধুই নাগরিক দায়িত্ব নয়, এটি ধর্মীয় কর্তব্য। ভোটের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত হলে দেশের কল্যাণ, সমাজের উন্নয়ন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। আল্লাহ বলেন, “তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না; যারা সত্য উপলব্ধি করে তার সাক্ষ্য দেবে।” (সুরা: জুখরুফ, আয়াত: ৮৬)
সুতরাং, মুসলিম ভোটারের নৈতিক ও দ্বিনদার দায়িত্ব হলো:
-যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া।
-অযোগ্য বা অনৈতিক প্রার্থীকে সমর্থন না করা।
-ভোট বিক্রি বা মিথ্যা সাক্ষ্য এড়িয়ে চলা।
-সমাজ ও দেশের কল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া।
এভাবে ভোটদান একদিকে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব, অন্যদিকে দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে পালন করা হয়। আল্লাহ সকলকে দ্বিনের সঠিক উপলব্ধি ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিন।
আতাউর রহমান খসরু
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


