ভুয়া জরিপ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত আগামী জাতীয় নির্বাচন: প্রবাসী ও ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দেশ বর্তমানে এক সংকটময় সময় পার করছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। খুব অল্প সময়ের এই প্রচারণা—মাত্র তিন সপ্তাহ—নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে, যেখানে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাই হবে মূল ভিত্তি। সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস কিংবা ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতির কোনো স্থান থাকবে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে একটি পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে—যাতে বলা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট দল এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে যাচ্ছে, যা তারা দীর্ঘ ইতিহাসেও অর্জন করতে পারেনি। এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করতেই এখন ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর জরিপ প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব জরিপে ওই দলকে বিএনপির সমপর্যায়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
চারটি প্রতিষ্ঠানের করা জরিপের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে দাবি করা হয়েছে বিএনপি ও একটি দলের মধ্যে কঠিন লড়াই হবে, কারণ তারা রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। এই যুক্তিতে বলা হচ্ছে, তাদের ভোট তিন শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে—অর্থাৎ আগে যেখানে তিনটি আসন ছিল, এবার তা ৪০টি আসনে রূপ নেবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, তাহলে কি বিএনপি নিষ্ক্রিয় ছিল?
দুদু বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব টানা ১৭ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকতে হয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। এসব বাস্তবতা উপেক্ষা করে করা জরিপ বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, যদি বিএনপির ভোট সত্যিই ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, তাহলে আসন সংখ্যাও তো দ্বিগুণ হয়ে ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। এই সাধারণ হিসাবই প্রমাণ করে যে প্রকাশিত জরিপগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি কিংবা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে জনগণ অতীতেও প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। নির্বাচন বানচালের যে কোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে সুবিধা দেবে এবং সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আবুল কালাম, চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


