বিমানে ভ্রমণের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে, ৬০ বছরের পুরোনো এক প্রযুক্তিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্টার্টআপ আর্ক অ্যারোসিস্টেম। হেলিকপ্টারের চেয়ে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে তারা তৈরি করেছে ‘পেগাসাস’ নামক একটি জাইরোপ্লেন, যা আধুনিক আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ষাটের দশকে ‘অ্যাভিয়ান’ নামের একটি উড়োজাহাজ আকাশে উড়েছিল, যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায়। সেই পুরোনো নকশাকেই আধুনিক হাইব্রিড প্রযুক্তিতে রূপান্তর করে আর্ক অ্যারোসিস্টেম নিয়ে এসেছে ‘পেগাসাস’। এটি এমন এক উড়োযান, যা হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে, কিন্তু এর পরিচালনার খরচ হেলিকপ্টারের তুলনায় খুবই সামান্য।
জাইরোপ্লেন বা অটোজাইরো দেখতে হেলিকপ্টারের মতো হলেও এর কার্যপদ্ধতি ভিন্ন। হেলিকপ্টারের মাথার রোটর বা পাখা ইঞ্জিনের শক্তিতে ঘোরে, কিন্তু জাইরোপ্লেনের রোটর ঘোরে বাতাসের চাপে। এর পেছনে থাকা একটি প্রপেলার একে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পেগাসাসের বিশেষত্ব হলো এটি রানওয়ে ছাড়াই লাফিয়ে ওঠার মতো কৌশলে সরাসরি ওপরের দিকে উড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ইউকে’-এর তথ্যমতে, হেলিকপ্টারে প্রতিটি মিশনে গড়ে প্রায় ৫,৭৩০ ডলার খরচ হয়। সেখানে আর্ক অ্যারোসিস্টেমের দাবি, পেগাসাস চালাতে ঘণ্টায় মাত্র ৩০০-৬০০ ডলার খরচ হবে। আর এটি কিনতে খরচ হবে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার। এটি বর্তমান এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মিশনগুলোর ৯০ শতাংশই সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।
ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোর অ্যারোস্পেস সায়েন্সের বিশেষজ্ঞ ড. ডগলাস থমসনের মতে, জাইরোপ্লেন যান্ত্রিকভাবে হেলিকপ্টারের চেয়ে অনেক বেশি সহজ এবং নিরাপদ। যদি মাঝ আকাশে এর ইঞ্জিন বিকলও হয়ে যায়, তবে এর রোটর ঘুরতে থাকায় এটি প্যারাসুটের মতো ধীরে ধীরে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসতে পারবে।
আর্ক অ্যারোসিস্টেম ইতোমধ্যে ১২ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ পেয়েছে এবং ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে আরও ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৯ সালের মধ্যেই এটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসবে। সংস্থাটি ৯ জন যাত্রী বহনে সক্ষম ‘লিঙ্কস পি৯’ নামে আরও একটি বড় জাইরোপ্লেন তৈরির কাজ চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ইতোমধ্যেই নরউইচ ভিত্তিক চ্যারিটি ‘স্কাইঅ্যাঞ্জেলস এয়ার অ্যাম্বুলেন্স’ ১০টি পেগাসাসের অগ্রিম অর্ডার দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ভিত্তিক অঙ্গ প্রতিস্থাপনকারী সংস্থা ’৩৪ লাইভস’ ৩০টি জাইরোপ্লেনের জন্য চুক্তি করেছে। হেলিকপ্টার বা চার্টার্ড জেটের তুলনায় কয়েক গুণ কম খরচে জীবন রক্ষাকারী কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গ হাসপাতালে পৌঁছে দিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


