অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে প্ররোচিত করে যৌন সম্পর্কের মামলায় জেফরি এপস্টেইন প্রথম দোষী সাব্যস্ত হন ২০০৮ সালে। এরপরও তিনি বিভিন্ন দেশের ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট ১৪ লাখ ইমেইল বিশ্লেষণ করে এপস্টেইনের সঙ্গে প্রভাবশালীদের যোগাযোগের একটি চিত্র প্রকাশ করেছে।

এসব ইমেইল থেকে অন্তত ৫০০ ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে যাদের সঙ্গে এপস্টেইনের সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ ছিল। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কোনো কোনো মাসে তারা পরস্পরের সঙ্গে শতাধিক ইমেইল বিনিময় করেছেন।
ইকোনমিস্টের তালিকা অনুযায়ী, শুরুতেই আছেন সাবেক ব্রিটিশ যুবরাজ অ্যান্ড্রু আলবার্টের সহকারী ডেভিড স্টার্ন। এর পরে আছেন যথাক্রমে; কানাডীয়-মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী লরেন্স ক্রস, আমেরিকান সাংবাদিক মাইকেল উলফ, এপস্টেইনের বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েল, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামার্স।
তালিকায় আরও আছেন, ফরাসি ব্যাংকার আরিয়ান ডি রথসচাইল্ড, লিংকডইনের প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান, ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট পিটার থিয়েল, হোয়াইট হাউসের সাবেক স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যানন, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং টেসলা ও স্পেস এক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক।
বিভিন্নজনের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের পরিধি বুঝতে খাতভিত্তিক তালিকাও করেছে ইকোনমিস্ট। আর্থিক খাতে যুক্তরাজ্যের বার্কলেস ব্যাংকের সাবেক সিইও জেস স্ট্যানলির সঙ্গে ৪ হাজার ৫৬৬ বার ইমেইল লেনদেন হয়েছে। শিক্ষাখাতে গবেষক বরিস নিকোলিকের সঙ্গে ১৫ হাজার ৫০৩টি ইমেইল পাওয়া গেছে।
রাজনীতিবিদদের মধ্যে আছেন, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাবেক নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন (ইমেইল ৪,৫৯৭টি), ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক (৪,২৪৮)। গণমাধ্যম ও বিনোদন জগতের ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন আমেরিকান প্রকাশক পেগি সিগাল (৬,৪৩৭), সাংবাদিক মাইকেল উলফ (৪,৮৩১) এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা উডি অ্যালেন (১,০৬৬)।
যোগাযোগ থাকা অধিকাংশ ব্যক্তিই বলেছেন, তারা এপস্টেইনের অপরাধের মাত্রার বিষয়ে জানতেন না। দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, কেবল ইমেইল বিনিময়ের সংখ্যা এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার চিত্র বোঝায় না। তাই তারা পাল্টাপাল্টি ইমেইল বিনিময়ের একটি পরিসংখ্যান খোঁজার চেষ্টা করেছে।
এতে দেখা গেছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের তুলনায় ফরাসি ব্যাংকার আরিয়ান ডি রথসচাইল্ড নিজ থেকে বেশি ইমেইল পাঠিয়েছেন। কানাডীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী লরেন্স ক্রস ও এপস্টেইনের মধ্যে প্রতিমাসে ইমেইল বিনিময়ের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। অপরদিকে বিল গেটসকে এপস্টেইন নিজেই সবচেয়ে বেশি ইমেইল করেছেন।
যৌন নিপীড়ন ও নারী পাচারের মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন এপস্টেইন। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কয়েক লাখ নথি প্রকাশ করে। সেগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের ধনী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নাম আছে। তবে ইমেইলে নাম থাকাটা তাদের অপরাধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রমাণ করে না।
তবে এরই মধ্যে এসব নথির প্রভাব দেখা গেছে। অ্যান্ড্রু আলবার্টের ব্রিটিশ রাজ পরিবারের উপাধি বাতিল করা হয়েছে। লেবার পার্টির নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ আছে। যুক্তরাজ্যের পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে দূত নিয়োগ করায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের বিল গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্জ গেটস তাদের দাম্পত্য জীবনের যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির কথা সামনে এনেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনার পর মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সে তুলনায় ঢাকা পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। সম্প্রতি তিনি নিজেই বলেছেন, এসব বিষয় বাদ দিয়ে এখন সামনে এগোনোর সময় এসেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


