জুমবাংলা ডেস্ক : কোথায় আছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস? তিনি দেশ ছেড়েছেন নাকি দেশেই কোথাও গা ঢাকা দিয়েছেন, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, নেতাকর্মীদের মতো খোঁজ মিলছে না প্রভাবশালী এই মেয়রের।

শেখ ফজলে নূর তাপস

Advertisement

শেখ হাসিনার পদত্যাগের আগে থেকেই অনেক মন্ত্রী-এমপি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। এরমধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও বেশিরভাগই আছেন আত্মগোপনে। তাদের কেউ কেউ উড়াল দিয়েছেন দেশের বাইরেও। তবে সরকার পতনের পর কোথায় আছেন মেয়র তাপস এই নিয়ে জনমনে বেশ কৌতুহল জন্ম নিয়েছে।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন চলার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস গত ৩ আগস্ট ভোরে অনেকটা গোপনে দেশ ছাড়েন। ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।

এদিকে ১৫ বছর আগে বিডিআর বিদ্রোহে রাজধানীর পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম শেখ ফজলে নূর তাপসসহ অনেকে সরাসরি জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন নিহত মেজর শাকিলের ছেলে রাকিন আহমেদ। শনিবার (১৭ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে নিহত মেজর শাকিলের ছেলে রাকিন আহমেদ দাবি করেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফজলে নুর তাপস ও শেখ সেলিম সরাসরি জড়িত। এছাড়াও নেপথ্যে আরও রয়েছে।’

এর আগে ২০২৩ সালে ১০০ কোটি টাকার মানহানির ক্ষতিপূরণ চেয়ে ব্যাপক সমালোচিত হন ব্যারিস্টার তাপস। সে বছর ১৩ মে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি রম্য রচনায় মানহানি হয়েছে দাবি করে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই মেয়র। পত্রিকাটির সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ তিনজনকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন তিনি।

সে সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মেয়র তাপসের আইনজীবী মেজবাহুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ডেইলি স্টার তাদের প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণে ‘কাটিং ট্রিজ টু মেক ওয়ে ফর এয়ার’ শিরোনামে একটি ‘কলাম’ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, কলামে ঢাকা সাউথ সিটি করপোরেশনের নাম বিকৃত করে ‘ধোকা সাউথ টাউন করপোরেশন’ করা হয়েছে। যিনি ‘কলাম’টি লিখেছেন, তিনি তার নিজের বক্তব্য উদ্ধৃতি চিহ্ন দিয়ে মেয়রের বক্তব্য বলে চালিয়েছেন, বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘পেনাল কোডের বিদ্যমান আইনে এমন বক্তব্য মানহানিকর।’ এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ১০০ কোটি টাকা দামের মেয়র সম্বোধন করা হতো।

২০২৩ সালের শুরুর দিকে সড়কের গাছ কেটে নেতিবাচক আলোচনায় আসেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার তাপস। রাজধানীর সাতমসজিদ সড়কে গভীর রাতে গাছ কেটে ফেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তখন এ নিয়ে নানা মহলের সমালোচনা, বিক্ষোভ সমাবেশের পর গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে ২০২০ সালের ৩০ জুলাই দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, ‘ঢাকাবাসীর অভিপ্রায় অনুযায়ী বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’

ওই বক্তব্যের প্রায় চার সপ্তাহ পর আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনসংযোগ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করা হয়। তাতে বলা হয়, ৩০ হাজার কুকুর শহরের বাইরের স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে করপোরেশনের। বেওয়ারিশ কুকুর অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করে বিভিন্ন প্রাণী অধিকার সংস্থা এবং পশুপ্রেমীরা। কুকুর অপসারণ না করার দাবিতে চিত্রাঙ্কন, মানববন্ধনসহ বেশ কিছু কর্মসূচিও পালিত হয়।

কুকুর নিধনের প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ
পরের বছর ২০২১ সালে জানুয়ারিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র থাকার যোগ্য নয় বলে দাবি করেন সংস্থাটির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেছেন, ‘তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরিত করেছেন। এই টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ করেছেন ও করছেন।

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন করার কথা ভাবা হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা

এছাড়া একজন প্রধান বিচারপতিকে নামিয়ে দিয়েছিলেন বলে যে মন্তব্য করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি’র মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ২০২৩ সালে মে মাসে তার এই বক্তব্য আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তাপস বলেছিলে, ‘মনটা চায় আবার ইস্তফা দিয়ে ফিরে আসি। যেখানে মুগুর দেয়ার সেটাও জানি। একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম। মশিউজ্জামানকে (বারের গত নির্বাচনের সাব কমিটির প্রধান) আমরা মনে করতাম, ওরে বাবা, কী জানি ফেরেস্তা আসছে। সবচেয়ে বড় চোর হলো মশিউজ্জামান। যে সকল সুশীলরা আমাদেরকে বুদ্ধি দিতে যাবেন সেই সকল সুশীলদের আমরা বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীর কালো পানিতে ছেড়ে দেবো।’ – ইত্তেফাক

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.