চট্টগ্রামের পটিয়ায় মায়ের করা মামলায় ছেলের জামিন হলেও পুত্রবধূ ও ১ বছর ৯ মাস বয়সি নাতিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। জীবন রক্ষার্থে দুগ্ধপোষ্য শিশু আরহাম উদ্দিন আয়াতকে কারাগারে মায়ের কাছে পাঠানোর আবেদন করেন বাবা। অনুমতি মিললে শিশুকেও কারাগারে পাঠানো হয়। হতভাগ্য বাবা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন বাড়ি ফিরে শুক্রবার রাতে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
নেজামের বাবার নাম জামাল উদ্দিন। বাড়ি উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে। তিনি হাবিলাসদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি ছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারির ঘটনা। স্ত্রী বেবি আক্তার ও শাশুড়ি রাশেদা আক্তারের মধ্যে ঝগড়া হয়। স্ত্রী কামড় দিয়ে শাশুড়ির (নেজামের মা) হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এ ঘটনায় নেজামের মা পটিয়া জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছেলে ও পুত্রবধূর নামে সিআর মামলা করেন। আদালত পটিয়া থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত নেজাম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বৃহস্পতিবার স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাররাহুম আহমেদ নেজামকে জামিন দেন ও আঙুল বিচ্ছিন্নের ঘটনায় তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাঈনুল ইসলাম সুমন ও শাহীনা আক্তার জানান, দুগ্ধপোষ্য শিশুকে কারাগারে তার মায়ের কাছে প্রেরণের অনুমতি চান। আদালত অনুমতি দিলে শিশুকেই কারাগারে পাঠানো হয়।
নেজাম বাড়ি ফিরলে শাশুড়ি ও প্রতিবেশীরা তাকে তিরস্কার করে। অপমান সইতে না পেরে নেজাম শুক্রবার রাতে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পটিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর শনিবার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।