মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র- নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী সোমবার ভোরে চাঁদের মহাকর্ষীয় বলয়ে প্রবেশ করে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েছে। চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠ বা ‘ফার সাইড’ অতিক্রম করার সময় তারা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানো মানুষের মর্যাদা পেতে যাচ্ছেন। ফ্লোরিডা থেকে গত সপ্তাহে ওরিয়ন ক্যাপসুলে যাত্রা শুরু করা এই দলটি এখন মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে। খবর রয়টার্সের।

রেকর্ড ভাঙা দূরত্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত: মিশনের ষষ্ঠ দিনে মার্কিন সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৭ মাইল দূরে পৌঁছাবেন। এটি গত ৫৬ বছর ধরে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের দখলে থাকা দূরত্বের রেকর্ডকে ৪,১০২ মাইল ছাড়িয়ে যাবে।
নাসা নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন যখন এই রেকর্ড গড়বেন, তখন তারা চাঁদের অন্ধকার দিক থেকে প্রায় ৪,০০০ মাইল উপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করবেন। সেখান থেকে দূর দিগন্তে বাস্কেটবল আকৃতির পৃথিবীকে চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়তে দেখবেন তারা।
ফ্লাইবাই ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: মার্কিন সময় সোমবার দুপুর ২টা ৩৪ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই লুনার ফ্লাইবাই বা চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নভোচারীরা প্রায় ছয় ঘণ্টা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করবেন। এই সময়ে চাঁদ পৃথিবী ও ওরিয়ন ক্যাপসুলের মাঝখানে অবস্থান করায় নাসার ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের সাথে তাদের যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকবে। এই সংক্ষিপ্ত নীরবতা মিশনের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ও রোমাঞ্চকর অংশ।
বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও আলোকচিত্র: যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও এই সময়ে নভোচারীরা অলস বসে থাকবেন না। ওরিয়নের জানালা দিয়ে তারা চাঁদের ছায়াবৃত পৃষ্ঠের অত্যন্ত দুর্লভ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যবান ছবি তুলবেন। বিশেষ করে সূর্যের আলো যখন চাঁদের কিনারা দিয়ে চুইয়ে পড়বে, তখন এক অদ্ভুত চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য দেখা যাবে।
এছাড়া তারা লুনার দিগন্ত থেকে পৃথিবীর উদয় হওয়ার দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি করবেন। হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারের সায়েন্স ইভ্যালুয়েশন রুমে বসে একদল বিজ্ঞানী নভোচারীদের দেওয়া বর্ণনা রিয়েল-টাইমে নোট করবেন।
আর্টেমিস মিশনের লক্ষ্য: ১০ দিনব্যাপী এই আর্টেমিস-২ মিশনটি নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের প্রথম মানববাহী পরীক্ষামূলক ফ্লাইট। কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে চীনের আগে চাঁদের পৃষ্ঠে পুনরায় নভোচারী পাঠানো। এছাড়া আগামী দশকের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং একটি চন্দ্র ঘাঁটি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব মিশনের জন্য পরীক্ষাগার হিসেবে কাজ করবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই সফল ফ্লাইবাই এবং দূরত্বের নতুন রেকর্ড কেবল নাসার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং মহাকাশ গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী আধিপত্য ও মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্নকেও আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


