আবির হোসেন সজল : দুটি হাত জন্ম থেকেই অচল কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। জীবনের প্রতিটি বাধাকে পায়ের শক্তিতে জয় করে এগিয়ে চলেছেন অদম্য সাহস নিয়ে। পা-ই তার কলম, পা-ই তার স্বপ্নপূরণের সোপান। এই অসাধারণ সংগ্রামের নাম—আরিফা খাতুন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেখানে অনেকের পথ রুদ্ধ করে দেয়, সেখানে আরিফা দেখিয়েছেন এক অনন্য উদাহরণ। পা দিয়ে লিখেই এসএসসি থেকে শুরু করে আজ মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তিনি। প্রতিটি পরীক্ষার খাতা যেন তার সংগ্রাম আর জয়ের জীবন্ত দলিল।

লালমনিরহাট পৌর এলাকার উত্তর সাপটানা শাহীটারী গ্রামের বাসিন্দা আরিফা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ছিলেন আগ্রহী। ব্র্যাক স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৪২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৪৪ অর্জন করেন। পরবর্তীতে লালমনিরহাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। শিক্ষকদের প্রত্যাশা পূরণ করে তিনি হয়ে ওঠেন সবার গর্ব।
আরিফার মা মমতাজ বেগম জানান, পাঁচ সন্তানের মধ্যে আরিফাই সবচেয়ে ছোট। জন্ম থেকেই দুই হাত অচল থাকায় দারিদ্র্যের কারণে তার চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। বাবা আব্দুল আলী একসময় ফুটপাতে তালা-চাবির কাজ করতেন। চার বছর আগে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে মা-মেয়ে টিউশনি করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন। এসএসসি পাসের পর আরিফা ভর্তি হন মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে বর্তমানে লালমনিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষার্থী নন বরং এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। পা দিয়ে তার লেখা এতটাই সুন্দর ও পরিপাটি যে অনেকেই বিস্মিত হন। প্রতিটি অক্ষরে ফুটে ওঠে তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস।মাস্টার্স পরীক্ষার হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাষক রাজু আহমেদ বলেন, “আরিফাকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। সে অত্যন্ত মেধাবী। শরীরে একাধিক অপারেশনের পরও তার মনোবল ভেঙে যায়নি এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, “এমন শিক্ষার্থী সমাজ ও জাতির জন্য সম্পদ। যথাযথ সহযোগিতা পেলে আরিফা একদিন উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীনও বলেন, “এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের দায়িত্ব। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আরিফার স্বপ্ন-লেখাপড়া শেষ করে একজন শিক্ষক হওয়া এবং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী জীবন গড়া। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হয়ে সমাজে অবদান রাখার ইচ্ছাও রয়েছে তার। জীবনের প্রতিকূলতা যেখানে অনেককেই থামিয়ে দেয়, সেখানে আরিফা খাতুন প্রমাণ করেছেন “ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


