আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য অভিশংসনের যে প্রস্তাব এসেছিল তা থেকে রেহাই পেয়েছেন তিনি। গত বুধবার অভিশংসন বিচার প্রক্রিয়া থেকে ট্রাম্পকে মুক্তি দিতে দেশটির সিনেটে ঐতিহাসিক এক ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তাতেই ট্রাম্পকে আপাতত প্রেসিডেন্ট পদ থেকে না সরানোর পক্ষে রায় দেন সিনেটররা।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত দেশটির পার্লামেন্টের প্রতিনিধি পরিষদ দুই অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসনের এই প্রস্তাব দেড় মাস আগে সিনেটে পাঠিয়েছিল। তবে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে এই মুক্তি পেয়েছেন তিনি।
বিবিসি জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার পদচ্যুতির বিষয়ে সিনেটে ৫২-৪৮ ভোটে জিতেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তার প্রেসিডেন্ট পদ হারানোর সম্ভাবনা খারিজ হয়েছে ৫৩-৪৭ ভোটে। কোনো কারণে ট্রাম্প এই ভোটে হেরে গেলে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছে ক্ষমতা বুঝিয়ে দিতে হতো।
সিনেটে উটাহর সিনেটর মিট রমনি ছিলেন একমাত্র রিপাবলিকান, যিনি দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দেন। তবে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের নিরাশ করেছেন অন্য দুই মধ্যপন্থি রিপাবলিকান সিনেটর মেইনের সুসান কলিনস এবং আলাস্কার লিসা মারকাওস্কি। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেননি। এর আগে ডিসেম্বরে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প।
এদিকে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটররা বলেছেন, এর ফলে ট্রাম্প আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য সবসময় একটি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং রিপাবলিকান সিনেটররা আইন না থাকার ব্যাপারটিকে সাধারণ বানিয়ে ফেলেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের আগে প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসন এবং বিল ক্লিনটনকে অপসারণের প্রস্তাব সিনেটে পাঠিয়েছিল বিরোধীরা। তবে সিনেট তাদেরও কাউকে পদচ্যুত করেনি। ফলে আগামী নভেম্বরে দ্বিতীয়বারের জন্য ফের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য এখন প্রস্তুত হচ্ছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে দুটি অভিযোগ সিনেটে উঠেছিল, তা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন তিনি। বুধবার অভিশংসন বিচার থেকে রেহাই পাওয়ার পর তার নির্বাচনী প্রচারণা দল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্প পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন এবং এখন আমেরিকার জনগণের নিজ কাজে মন দেওয়ার সময় এসেছে। অকর্মণ্য ডেমোক্র্যাটরা জানে তারা ট্রাম্পকে হারাতে পারবে না, সেজন্য তারা তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছিল। এই অভিশংসন প্রক্রিয়া ছিল ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণার কৌশলমাত্র।
একে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ‘ধাপ্পাবাজি’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একই বিষয় নিয়ে গতকাল ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টের দিন হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ট্রাম্প। বক্তব্য তিনি সিনেট হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবং নিজ দলের সিনেটর মিট রমনির কঠোর সমালোচনা করেন। ওই দুজনের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজন আমাদের জাতির বাজেভাবে ক্ষতি করছে।’
বিবিসির খবরে আরও বলা হয়, চলতি সপ্তাহে আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪৯ শতাংশে উঠেছে, যা এ যাবৎকালে তার জনপ্রিয়তার হারে সর্বোচ্চ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


