বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ টাইমসের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কর্তব্যরত ২১ জন সংবাদকর্মীকে অফিস থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বিওজেএ’র সভাপতি জাহিদ ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক এম ইব্রাহিম সরকার।

বিওজেএ

Advertisement

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অফিসে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের ঘেরাও, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং নজিরবিহীন। যদি সত্যিই কোনো বাহিনীর নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে এ কাজ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আরও ভয়ংকর—কারণ এটি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা এবং আইনের অপব্যবহার।

তারা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই—কারা, কোন ইউনিট বা কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যদি এটি কোনো অনুমোদিত অভিযান না হয়ে থাকে, তাহলে সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহারকারী সেই অতি উৎসাহী চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়—এই নীতি বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, অতীতের স্বৈরশাসনের সময়ও একসাথে একটি গণমাধ্যম হাউস থেকে এতসংখ্যক সাংবাদিককে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি—এমন অভিযোগ বর্তমান ঘটনাকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।

তারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা কোনো অপরাধী গোষ্ঠী নন; তারা জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করেন। কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনানুগ নোটিশ, লিখিত নির্দেশনা এবং স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। বলপ্রয়োগ, পরিচয়ের প্রভাব বা ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে সাংবাদিকদের দমন করার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, নির্বাচন প্রাক্কালে এ ধরনের ঘটনা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা দেবে। এতে দেশের গণতান্ত্রিক অঙ্গন ও সংবাদ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন, জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট শুরু, বন্ধ পণ্য ও কনটেইনার উঠানামা

সাংবাদিক নেতারা বলেন, গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে নয়—সহযোগিতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় এটি শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত হয়ে থাকবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.