দেশের সাধারণ মানুষের সঞ্চয় আর আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত সোনা ও রুপার দামে যেন আগুনের হলকা লেগেছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার থেকেই সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে বর্ধিত মূল্য তালিকা।

বুধবার সকালে বাজুস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা এই দাম পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছেন। মূলত বিশ্ববাজারের অস্থিরতা আর স্থানীয় চাহিদার যোগসাজশেই দেশের বাজারে সোনার দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকায়। অথচ মাত্র একদিন আগেও এই মানের সোনা কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হতো ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা। মধ্যবিত্তের বিয়ের কেনাকাটা বা বিনিয়োগের পরিকল্পনায় এই বাড়তি খরচ বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একইভাবে দাম বেড়েছে ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনারও। ২১ ক্যারেট সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকায়। যারা সনাতন পদ্ধতির সোনা কিনতে চান, তাদের এখন থেকে প্রতি ভরির জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা গুনতে হবে। সোনার এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে বাজারে অলংকার কেনাবেচার গতি কিছুটা ধীর হয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে শুধু সোনাই নয়, সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকা রুপার দামেও হাত দিয়েছে বাজুস। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে এখন ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ও ১৮ ক্যারেট রুপার ভরি যথাক্রমে ৬ হাজার ৪১৫ টাকা ও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা করা হয়েছে। রুপার এই মূল্যবৃদ্ধি ছোটখাটো গয়না তৈরি বা শৌখিন ক্রেতাদের পকেটে টান ফেলবে নিশ্চিতভাবেই।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এই অল্প কয়েক মাসেই সোনার দাম মোট ৪০ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বারই দাম বেড়েছে, আর কমেছে মাত্র ১৪ বার। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও বাজার ছিল অস্থির, যেখানে ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বারই দাম বেড়েছিল। এই ধারাবাহিকতা বলে দিচ্ছে যে, সোনার বাজারে স্থিতিশীলতা আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আরও পড়ুনঃ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের ফলেই স্থানীয় জুয়েলারি বাজারে এমন প্রভাব পড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা এখন সোনা কেনার চেয়ে পুরনো সোনা বিক্রির দিকে বেশি ঝুঁকছেন কি না, সেটিও একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানের এই উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের উৎসবের আমেজকে কতটা ম্লান করে দেবে, তা সময় বলে দেবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


