
শুনানিতে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, একজন নারীকে নৃশংসভাবে পি*টিয়ে হ*ত্যা করে এ আসামি (ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা)। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় ওই নারীকে হ*ত্যা করা হয়। এ কথা বলে আইনজীবীরা কেঁদে ওঠেন। তারা বলেন, স্যার মাথা কাটা, ছেলে ধরা; এটা শুধু গুজব নয়। এটা একটি কুচক্রিমহলের কাজ। এরা একটা গ্যাংয়ের সদস্য। এ আসামিকে রিমান্ডে নিলেই সব তথ্য উদ্ঘাটন হবে।’ এ সময় উপস্থিত অর্ধশতাধিক আইনজীবী আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড দাবি করেন।
এরপর মামলার বাদী নিহতের ভাগ্নে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, একটি মানুষকে কীভাবে নৃ*শংসভাবে হ*ত্যা করা হলো, সারাদেশের মানুষ ভিডিওটি দেখেছে। হৃদয় যখন দেখছে রেনুর হাতের একটি আঙ্গুল নড়ছে তথন ওই আঙ্গুলে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। যখন দেখেছে পা নড়ছে, তখন লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করেছে। মৃ*ত্যু নিশ্চিত করে তারপর সে ক্ষান্ত হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) লিয়াকত আলি আসামির রিমান্ডের দাবি করে বলেন, আসামি হলো মাস্টারমাইন্ড। অন্যান্য আসামিদের খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ রিমান্ড দাবি করছি।
শুনানি শেষে বিচারক আসামিকে জিজ্ঞেস করেন তার কোনও আইনজীবী আছে কিনা? হৃদয় জানায়, তার কোনও আইনজীবী নেই। তার মা-বাবাও নেই। এরপর বিচারক আবারও আসামিকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে হৃদয় বলে, ‘‘স্যার আমি সবজি বিক্রি করি। একজন মহিলা আমাকে বলে, ‘একজন ছেলেধরা মহিলা ধরা পড়ছে।’ তখন আমি গিয়ে দেখি ওই মহিলাকে একটা বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখছে। ওইখানে অন্যান্য লোকেরা আগেই এ মহিলাকে মে*রে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর আমি যাই….।’’ এরপর বিচারক শুনানি শেষে প্রধান আসামি ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রি*মান্ডের আদেশ দেন। আাদালতে আসামিকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক।
নিহত রেনুর ছোট ছেলে তাসিম আল মাহির আদালতে হাজির ছিলেন। আদালতে দীর্ঘক্ষণ মা হারা সন্তানকে নিশ্চুপ থাকতে দেখা যায়। এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে হৃদয়কে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২০ জুলাই) সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাসলিমা বেগম রেনু। এসময় ছেলেধরা সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হ*ত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় ওই রাতেই বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪শ-৫শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



