মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বুধবার (২১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৮০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।

স্পট মার্কেটে বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪,৮৮৫ দশমিক ১১ ডলারে। লেনদেনের একপর্যায়ে দাম আরও বেড়ে ৪,৮৮৭ দশমিক ৮২ ডলারে উঠে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। একই সময়ে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স বাজারে স্বর্ণের দামও ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮৮৮ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের চিড় ধরেছে। ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এরই প্রতিফলন হিসেবে সোনার বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য থেকে তিনি পিছু হটবেন না। এমনকি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। এ সময় ন্যাটো মিত্রদের প্রতিও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে এমন একটি সমাধানে পৌঁছানো হবে, যাতে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট থাকে।
এদিকে, দাভোসে দেওয়া এক বক্তব্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের হুমকির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইউরোপ কোনো ধরনের হুমকি বা দাদাগিরির কাছে মাথানত করবে না।
এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক বাজার বিভাগের প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল বলেন, ৪,৮০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করায় এটা স্পষ্ট যে বিনিয়োগকারীরা ৫,০০০ ডলারের আগ পর্যন্ত স্বর্ণ বিক্রি করতে আগ্রহী নন। তার মতে, বাড়তে থাকা বৈশ্বিক ঋণ, দুর্বল ডলার এবং চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—এই তিনটি বিষয় মিলেই স্বর্ণের দামে এমন উত্থান ঘটাচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের কঠোর অবস্থানের জেরে মার্কিন সম্পদবাজারে বড় ধরনের বিক্রি দেখা গেছে। এর ফলে ডলার সূচক প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। ডলারের মান কমে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত ধাতু তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে, যা সোনার চাহিদা আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৯৫ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়ায়, যদিও আগের দিন এটি ৯৫ দশমিক ৮৭ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। প্লাটিনামের দামও ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২,৪৭৩ দশমিক ৮০ ডলারে নেমেছে, দিনের শুরুতে যা ছিল ২,৫১১ দশমিক ৮০ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়ে ০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১,৮৮১ দশমিক ৫৭ ডলারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


