
যে কারণে সবাই খোঁজ-খবর নিচ্ছিলো। কেউ কেউ ওই কক্ষে সরাসরি উপস্থিত হয়। মুজাহদি যখন ওই কক্ষে আবরার তখন মেঝেতে পড়েছিলো। রাত প্রায় পৌনে ১১ টার দিকে বুয়েট ছাত্রলীগের উপ সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল আবরারকে মেজে থেকে উঠিয়ে কয়েকটা চড় মারে। এসময় অকথ্য ভাষায় গালিও দেয়। চড় মারে তাবাখখারুলও।
এসময় মোটা রশি হাতে নিয়ে আবরারকে পিটাতে থাকে মুজাহিদ। আবরার তখন বারবার রশি ধরে তাকে না মারার জন্য অনুনয় করেছিলেন। চিৎকার করতে করতে বলেছিলেন, ‘আর না ভাই, আর না.. আমি আর পারছি না।’ একপর্যায়ে মুজাহিদকে সরিয়ে দিয়ে স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে পিঠে, পায়ে পিটাতে থাকে ইফতি। আবরার তখন ‘মাগো মাগো’ বলে চিৎকার করছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই ২০১১ নম্বর কক্ষে ঢুকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু। কক্ষে ঢুকেই স্ট্যাম্প হাতে নিয়ে সবাইকে সরিয়ে দেয় অনিক। তারপর বেদম পেটাতে থাকে। আবরারের চিৎকার তখন বেড়ে যায়। বারবার পায়ে পড়ে তাকে আর না মারতে বলেছিলেন। আবরার বলেছিলেন, ‘এভাবে মারবেন না, আমি বাঁচবনা ভাই, ভাই..।’ কিন্তু আবরারের আর্তনাদে সাড়া না দিয়েই তাকে পিটাতে থাকে অনিক। রাত ১২টা পর্যন্ত এভাবেই পিটানো হয় আবরারকে।
৬ই জুন আবরার হ’ত্যাকাণ্ডের পরপরই ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মুজাহিদসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলো সে। চাঞ্চল্যকর এই হ’ত্যা মামলায় এর আগে বুয়েট ছাত্র ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন ও অনিক সরকার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত ৬ই অক্টোবর রাতে পি’টিয়ে হ’ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের পিতা বরকতুল্লাহ বাদি হয়ে ১৯ জনের নামে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। আবরার হ’ত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত কয়েক দিনে মোট ১৯ জন গ্রেপ্তার করেছে এ মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সূত্র: মানবজমিন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


