২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় টেক্সাসের আর্লিংটনে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ম্যাচের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইয়ামাল। ফরাসিদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায়, তবে সেটা আমাদেরই পাওয়া উচিত। আমরা এর আগেও তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছি এবং টানা দুইবার হারিয়েছি। আমার বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপের সেরা দুটি দলই এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। তবে আমাদের মনে কোনো ভয় নেই।
আগামী সোমবার ১৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই স্প্যানিশ উইঙ্গার মনে করেন, প্রতিপক্ষ দলগুলো স্পেনের বিপক্ষে স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে সাহস পায় না। তার ভাষায়, হয়তো বাইরে থেকে মনে হতে পারে আমরা আমাদের সেরা ফুটবল খেলছি না। কিন্তু প্রায় প্রতিটি দলই আমাদের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। এখন পর্যন্ত কোনো দল আমাদের সঙ্গে সমানতালে খেলতে আসেনি। তবুও আমরা জিতছি, আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দ প্রকাশ করে ইয়ামাল বলেন, আমরা অনেক দূর এসেছি। এখন লক্ষ্য একটাই—ফাইনালে পৌঁছানো এবং এই যাত্রা আরও এগিয়ে নেওয়া।
ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ইতিহাসও। গত তিন বছরে স্পেন ও ফ্রান্সের এটি হবে তৃতীয় বড় মঞ্চের লড়াই। ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগ—দুই আসরেই জয় পেয়েছিলো স্পেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েই এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নামবে তারা।
২০১০ সালের পর এটি স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। অন্যদিকে ফ্রান্সের সামনে রয়েছে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের পথচলা খুব একটা সহজ ছিলো না। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। এরপর অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। তবে শেষ দুটি নকআউট ম্যাচে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে স্প্যানিশদের, যেখানে আর্সেনাল মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোর গুরুত্বপূর্ণ গোল তাদের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা ইয়ামাল জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সাফল্যই এখন তার মূল লক্ষ্য। প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা পুরোপুরি দেখাতে না পারলেও তিনি দলের জয় এবং ফাইনালে ওঠার দিকেই মনোযোগী।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও ফ্রান্সের শক্তিমত্তার কথা স্বীকার করেছেন। তবে নিজের দলের সামর্থ্য নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
স্প্যানিশ কোচ বলেন, এই ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা জানি ফ্রান্স কতোটা শক্তিশালী দল। তবে এটাও জানি, তাদের হারানোর সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ জিততে হলে নিজেদের সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



