কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও নিজেদের খেলায় সন্তুষ্ট নন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের অনেক দুর্বলতা সামনে এসেছে এবং সেগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে।

ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘আজ আমরা সব সময়ের মতোই দারুণ চেষ্টা করেছি। কখনো ভালো খেলেছি, আবার কখনো খারাপও খেলেছি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্রাম নেওয়া, সামনে কী আছে তা নিয়ে ভাবা এবং আজকের ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখা। শুধু পরের পর্বে ওঠাই নয়, আমরা অনেক ভালো কাজও করেছি। তবে খারাপ দিকগুলোও ঠিক করতে হবে, আর আজ সেগুলো ছিল অনেক।’
ম্যাচে প্রথমে দুর্দান্ত এক গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। তবে কেপ ভার্দে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে লিসান্দ্রো মার্তিনেস গোল করে আবারও আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেও সিডনি লোপেস কাবরালের অসাধারণ এক গোলে আবারও সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি।
শেষ পর্যন্ত ১১১তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড কেপ ভার্দের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় দিনেই বোরজেসের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে বিদায় নিলেও ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। মাত্র প্রায় পাঁচ লাখ ২৫ হাজার জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট জনসংখ্যার দেশ হিসেবে নতুন নজির গড়েছে।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের প্রশংসাও করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি খুব কঠিন হবে। তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলকে হারায়নি বা তাদের বিপক্ষে ভালো ফল করেনি, এমন নয়। প্রথম গোলটি করাই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। আমরা ভেবেছিলাম এরপর নিজেদের খেলাটা খেলতে পারব এবং আরও স্বস্তিতে থাকব। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টোটা। আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, পেছনে নেমে গেছি, ঠিকমতো চাপ তৈরি করতে পারিনি। আর তারা তাদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম সহজ হবে না। এটি নকআউট পর্ব, এখানে কেউ কাউকে বিনা লড়াইয়ে কিছু ছেড়ে দেয় না। এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন।’
আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, দলের দুর্বলতা নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
স্কালোনি বলেন, ‘সহজ কোনো প্রতিপক্ষ নেই। কেপ ভার্দেকে অভিনন্দন। আমরা অবশ্যই নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কথা বলব। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, আমাদের খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই ছাড়েনি।’
এই জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা টানা ১১তম জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ইতিহাসের দীর্ঘতম জয়ের ধারার নতুন রেকর্ড গড়েছে।
এদিকে প্রথমার্ধে করা গোলের মাধ্যমে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ২০, যা কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে দুটি বেশি। একই সঙ্গে টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি। সর্বশেষ আট বিশ্বকাপ ম্যাচে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
চলতি বিশ্বকাপে সাত গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে রয়েছেন মেসি। তার চেয়ে এক গোল কম রয়েছে এমবাপ্পের।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আগামী মঙ্গলবার মিসরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



