ইফতারে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর পেঁপে খেলে তা হজমে সহায়তা করে থাকে এবং শরীরকে আর্দ্র রাখে। তবে পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন এনজাইমের কারণে নির্দিষ্ট কিছু খাবারের সঙ্গে এটি খেলে পেটে গ্যাস, বদহজম কিংবা বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পেঁপের সঙ্গে লেবু বা টকজাতীয় ফল যেমন— কমলা ও আঙুর খেলে অ্যাসিডিটি এবং বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন— এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেকেই ইফতারে নানা ধরনের মিল্কশেক, দুধের তৈরি মিষ্টান্ন খান। পেঁপের সঙ্গে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ পেঁপের সঙ্গে দুধ কিংবা দুগ্ধজাতীয় খাবার খেলেও বিপদ ঘটতে পারে। কেননা পেঁপেতে রয়েছে পাপেইন ও কাইমোপাপেইন নামক এনজাইম, যা দুধকে দই করে ফেলতে পারে।
পেঁপের এনজাইম দুধকে জমিয়ে দেয়, যা থেকে পেট ফাঁপা, পেটব্যথা কিংবা হজমে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে কারও কারও গ্যাস্ট্রিক, পেট ফোলা ভাব, পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দুধ, দই বা পনির খাওয়ার অন্তত ১-২ ঘণ্টা আগে বা পরে পেঁপে খাওয়া ভালো।
সে জন্য ইফতারে একসঙ্গে নানা ধরনের খাবার খাওয়া ঠিক নয়। একেক খাবারের একেক গুণ রয়েছে। তবে ইফতারের টেবিলে যদি পাকা পেঁপে রাখেন, তাহলে অন্যান্য খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ পেঁপেতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো উপকারী সব উপাদান রয়েছে। পেঁপের সঙ্গে যা ইচ্ছে তা খাওয়া যাবে না। এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা পেঁপের সঙ্গে মিলিয়ে খেলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।
অনেকেই ফল দিয়ে ইফতার করতে খুব পছন্দ করেন। তাই কাঁচা ও পাকা পেঁপে দুই-ই একসঙ্গে খান। এটি ঠিক নয়। কাঁচা পেঁপেতে ল্যাটেক্সের পরিমাণ পাকা পেঁপের তুলনায় বেশি থাকে। দুই ধরনের পেঁপে একসঙ্গে খেলে কাঁচা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স গলা ও মুখে জ্বালাপোড়া ভাব তৈরি করতে পারে। যাদের ল্যাটেক্স অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের সমস্যা বেশি হতে পারে।
আর পেঁপের সঙ্গে চর্বিযুক্ত খাবার মিশিয়ে খাওয়া ঠিক নয়। খেলে পেট ফুলে যাওয়া কিংবা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভাজা খাবার, চর্বিযুক্ত মাংস কিংবা ক্রিমযুক্ত সসের মতো খাবারগুলো হলো উচ্চ চর্বিযুক্ত। এসবের সঙ্গে পেঁপে না খাওয়াই ভালো।
এছাড়া পেঁপের সঙ্গে কমলা, লেবু কিংবা জাম্বুরার মতো ফল খাবেন না। কারণ এ ফলগুলোতে ভরপুর ভিটামিন সি থাকে। তাই সাইট্রাস জাতীয় ফল এবং পেঁপে একসঙ্গে খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে। পেটব্যথা, পেটে অস্বস্তি কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই এ দুই ধরনের ফল একসঙ্গে খাওয়া যাবে না।
ইফতারে সাধারণত ভাজাপোড়া ও ঝাল মসলাদার খাবার খেলে পেঁপে না খাওয়াই ভালো। আর পেঁপে খেলে ঝাল মসলাদার খাবার থেকে বিরত থাকুন। বেশি ঝালযুক্ত খাবার খেলে অনেকসময় এমনিতেই পেটে সমস্যা দেখা দেয়। এর সঙ্গে পেঁপে যুক্ত করলে সমস্যাটি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে যারা হজমের সমস্যায় ভুগছেন, তারা পেঁপের সঙ্গে ঝাল মসলাদার খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


