নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বেশি ভোট পাওয়ায় শরীয়তপুরে মসজিদের ইমামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন চর-নারায়নপুর দেওয়ান বাড়ি মসজিদ এলাকায় ঘটেছে।

আহত হাফেজ মাওলানা মনির হুসাইন চর-নারায়নপুর দেওয়ান বাড়ি মসজিদের ইমাম-খতিব ও শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা চর-নারায়ণপুর ভোট কেন্দ্রে বিএনপি চেয়ে শতাধিক ভোট বেশি পেয়ে দাঁড়ী পাল্লা বিজয় হয়। এনিয়ে শুক্রবার ওই মসজিদের ইমামকে স্থানীয় যুবদল নেতা আকিব হাওলাদার সহ কয়েকজন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক কেন বেশি ভোট পেয়েছে এবিষয়ে জানতে চায়। এসময় মসজিদের ইমাম মনির হুসাইন জানান তিনি ভোট দেওয়ার কেউ নয়।
পরে ইমাম মনির হুসাইনকে রুম থেকে টেনে বাহিরে এনে মারধর করে ফেলে রেখে যায় এবং নামাজের পরে তাকে এই মসজিদে পেলে হত্যা করে লাস গুম করার হুমকি দিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা। দুপুরে জুম্মার নামাজের সময় মুসল্লিরা ইমামকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে রুম থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লী শামিম দেওয়ান চেয়ারম্যানকে জানালে তাঁকেও জামায়াত কর্মী ট্যাগ দিয়ে মারধর করে অভিযুক্ত আকিব হাওলাদার । এতে শামিম দেওয়ানের মুখমন্ডল মারাত্মক জখম হয়।
স্থানীয় মুসল্লী ইলিয়াস হোসাইন বলেন, আমরা সবাই একই এলাকার মানুষ। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। এটা তো ইমামের দোষ নয়। তিনি তো কাউকে বলেন নি আপনি দাঁড়ী পাল্লা ভোট দেন। কিন্তু এভাবে একজন ইমামের ওপর হামলা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে এলাকার পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। আমি সঠিক তদন্ত করে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
আহত ইমাম মনির হুসাইন বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এসময় আকিব হাওলাদার সহ কয়েকজন এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলো এই কেন্দ্রে দাঁড়ী-পাল্লা ধানের শীষের চেয়ে বেশি ভোট কিভাবে পেলো। আমি শুধু বলেছিলাম এই কিভাবে বলবো। আমি এক ভোটের মালিক। সবাই আমার কথা ভোট দিবে এমন তো নয়।
যেখানে ইচ্ছে মানুষ ভোট দিয়েছেন এতে আমার দোষ কোথায়। এসময় আমাকে মারধর করে ফেলে রেখে যায় এবং নামাজের পরে আমাকে এখানে পেলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমি অবাক হই দাঁড়ী পাল্লা বেশি ভোট পেয়েছে সেটিকে কেন্দ্র করে আমার ওপর হামলা হবে এটা কখনো ভাবিনি। আমি কারও বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ পোষণ করি না। আমি এই হামলার বিচার চাই।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আকিব হাওলাদারকে ফোন দিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না। তবে আমার কর্মীরা মারধর করলে করতেও পারে। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান বলেন, আমাদের কাছে এখনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


