বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ ঘিরে আবারও আলোচনায় বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাদের খাদ্যাভ্যাস, ফিটনেস রুটিন ও জীবনযাপন নিয়েও সমর্থকদের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে লিওনেল মেসিসহ অনেক তারকা ফুটবলারের হাতে প্রায়ই একটি বিশেষ পানীয় দেখা যায়। সেটি হলো ইয়ারবা মাতে (Yerba Mate)।

টিভি সম্প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ভ্রমণের সময়—মাঠে নামার আগে, বিরতিতে অথবা ম্যাচ শেষে অনেক ফুটবলারের হাতেই দেখা যায় এই পানীয়। ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম Goal-এর তথ্য অনুযায়ী, মেসিসহ দক্ষিণ আমেরিকার অনেক তারকা নিয়মিত ইয়ারবা মাতে পান করেন।
তাহলে কী এই ইয়ারবা মাতে? কেন এটি এত জনপ্রিয়? এর স্বাস্থ্য উপকারিতা কী? চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ইয়ারবা মাতে কী?
ইয়ারবা মাতে হলো দক্ষিণ আমেরিকার একটি ঐতিহ্যবাহী ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয়। এটি ইয়ারবা মাতে গাছের শুকনো পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। সাধারণত বিশেষ ধরনের একটি পাত্রে গরম পানিতে ভিজিয়ে ধাতব স্ট্র (বোম্বিলা) দিয়ে এটি পান করা হয়।
স্বাদ কেমন?
ইয়ারবা মাতের স্বাদ কিছুটা তেতো। তবে এর স্বতন্ত্র স্বাদের কারণেই এটি আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া সিরিয়া ও লেবাননেও এই পানীয় ব্যাপকভাবে পান করা হয়।
ইয়ারবা মাতের ইতিহাস
ইয়ারবা মাতের উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী গুয়ারানি ও টুপি জনগোষ্ঠীর মধ্যে। পর্তুগিজ ভাষায় এটি চিমারাও (Chimarrão) এবং স্প্যানিশ ভাষায় সিমারন (Cimarrón) নামেও পরিচিত।
দক্ষিণ আমেরিকায় এটি শুধু একটি পানীয় নয়, বরং সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক। বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই একই পাত্র থেকে পালাক্রমে এটি পান করেন। গরম পানীয় ছাড়াও এটি ঠান্ডা বা আইসড টি হিসেবেও পরিবেশন করা হয়।
ইয়ারবা মাতের স্বাস্থ্য উপকারিতা
ফুটবলারদের মধ্যে ইয়ারবা মাতে জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা।
এর মধ্যে রয়েছে—
- ক্যাফেইন থাকায় এটি চা ও কফির মতো শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
- মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
- ক্লান্তি কমাতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
- এতে থাকা পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষ সুরক্ষায় সহায়ক।
- অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি খাদ্যতালিকায় যুক্ত করেন।
- এতে ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি রয়েছে, যা বিপাকক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে যেহেতু এতে ক্যাফেইন রয়েছে, তাই অতিরিক্ত পান না করাই ভালো।
কোন কোন ফুটবলার ইয়ারবা মাতে পান করেন?
লিওনেল মেসি
আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত মাতেপ্রেমী ফুটবলার। তাকে প্রায়ই হাতে মাতে পাত্র নিয়ে ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়। ম্যাচের আগে, ভ্রমণের সময় কিংবা অনুশীলনের ফাঁকে—বিভিন্ন সময় তিনি এই পানীয় উপভোগ করেন।
লুইস সুয়ারেজ
মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও নিয়মিত ইয়ারবা মাতে পান করেন। উরুগুয়েতে এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি পরিচিত পানীয়।
সার্জিও আগুয়েরো
আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা সার্জিও আগুয়েরোও ইয়ারবা মাতের বড় ভক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে একাধিকবার এই পানীয় পান করতে দেখা গেছে।
অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার
লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারও নিয়মিত মাতে পান করেন।
অঁতোয়ান গ্রিজম্যান ও পল পগবা
ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা অঁতোয়ান গ্রিজম্যান এবং পল পগবাও তাদের খাদ্যতালিকায় ইয়ারবা মাতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
নেইমার
ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারকেও বিভিন্ন সময়ে ইয়ারবা মাতে পান করতে দেখা গেছে।
গঞ্জালো হিগুয়েন
নেটফ্লিক্সের ডকুমেন্টারি First Team: Juventus-এ সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েনকে সতীর্থদের সঙ্গে ইয়ারবা মাতে উপভোগ করতে দেখা যায়।
ইংল্যান্ডেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে
২০১৮ বিশ্বকাপের আগে ইয়ারবা মাতে ইংল্যান্ডের ফুটবল মহলেও পরিচিতি পেতে শুরু করে। টটেনহ্যামে খেলা কয়েকজন দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলারের মাধ্যমে পানীয়টি ইংলিশ খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
সাবেক ইংল্যান্ড আন্তর্জাতিক এরিক ডায়ার জানান, এরিক লামেলা ও হুয়ান ফয়েথসহ দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকজন সতীর্থের কাছ থেকেই তিনি প্রথম মাতে সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে ড্যানি রোজ ও ডেলে আলীও এটি তাদের খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত করেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ইয়ারবা মাতে শুধু একটি পানীয় নয়, দক্ষিণ আমেরিকার সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্যাফেইন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন থাকায় এটি অনেক ফুটবলারের দৈনন্দিন রুটিনে জায়গা করে নিয়েছে। তবে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা চলমান, তাই এটি কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে নয়, বরং পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



