আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের হুমকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির সেনাপ্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) মেজর জেনারেল আমির হাতামি এক ভিডিও কনফারেন্সে সামরিক কমান্ডাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, শত্রুর প্রতিটি পদক্ষেপ নিখুঁত নির্ভুলতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনোভাবেই যেন শত্রুপক্ষ স্থল অভিযানে সফল হতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আমির হাতামি বলেছেন, ‘যদি শত্রুরা স্থল অভিযানের দুঃসাহস দেখায়, তবে একজন শত্রু সৈন্যকেও বেঁচে ফিরতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুদ্ধের ছায়া ইরান থেকে চিরতরে সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত ‘সমাপ্তির পথে’ এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এর ইতি ঘটবে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সমান্তরালে পারস্য উপসাগরে অতিরিক্ত মার্কিন সৈন্য মোতায়েন এবং রণতরীর উপস্থিতি স্থল অভিযানের প্রস্তুতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। পেন্টাগন এরই মধ্যে এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনসহ হাজার হাজার সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি শব্দহীন ভিডিওতে দেখা গেছে, আমির হাতামি তিন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে বসে আরও ডজনখানেক কমান্ডারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েল আমির হাতামিকে হত্যার দাবি করলেও ইরান তা নাকচ করে দিয়েছিল। বৃহস্পতিবারের এই বিবৃতিটি সেই ঘটনার পর তার প্রথম কোনো বড় ধরনের জনসম্মুখ ভাষণ।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বাড়ালেও, ইরান তাদের স্থলসীমা রক্ষায় ‘মরণপণ’ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে স্থল অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সতর্ক করেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

