জাহিদ ইকবাল: ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর অনন্য উপলক্ষ। তবে এবারের ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকায় দেখা গেল ভিন্ন এক আবেগঘন চিত্র—যেখানে আনন্দের রঙের সঙ্গে মিশে গেছে গভীর শ্রদ্ধা, স্মৃতি আর ভালোবাসা। জিয়া উদ্যান পরিণত হয়েছিল এমন এক মানবিক মিলনমেলায়, যেখানে হাজারো মানুষ দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করেছেন প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে।

রোববার বিকেলে সরেজমিনে জিয়া উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের নতুন পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, তবে সেই প্রাণচাঞ্চল্যের মাঝেও ছিল এক ধরনের নীরব আবেগ। কেউ কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মোনাজাতে হাত তুলেছেন, কেউবা অশ্রুসিক্ত চোখে প্রার্থনায় নিমগ্ন হয়েছেন। মনে হচ্ছিল, আনন্দের এই দিনে মানুষ ভুলে যায়নি তাদের প্রিয় নেতাদের স্মৃতি।
দোয়া করতে আসা মানুষের মধ্যে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। ছোট ছোট শিশুরা বাবা-মায়ের হাত ধরে এসেছে, অনেকেই হয়তো ইতিহাস পুরোপুরি জানে না, কিন্তু তারা দোয়ার অংশ হয়ে উঠেছে আন্তরিকভাবে। অভিভাবকদের ভাষ্য, নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও নেতৃত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই তারা সন্তানদের নিয়ে এখানে এসেছেন।
রাজধানীর নিকুঞ্জের জামতলা থেকে আসা গৃহবধূ শেফালী আক্তার বলেন, “আমার বাচ্চারা কয়েকদিন ধরেই এখানে আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছিল। তারা খালেদা জিয়ার কবর দেখতে এবং তার জন্য দোয়া করতে চেয়েছিল। ঈদের ছুটি থাকায় আজ তাদেরকে নিয়ে আসতে পেরেছি। দোয়া করতে পেরে তারা খুব খুশি।”
ইমরান হাসান নামের আরেক দর্শনার্থী জানান, “ঈদ শুধু আনন্দের সময় নয়, এটি আমাদের শেকড়কে স্মরণ করারও একটি উপলক্ষ। আমরা যারা আজ এখানে এসেছি, তারা শুধু একজন নেতাকে নয়, একটি সময় ও ইতিহাসকে স্মরণ করছি।”
অনেকেই জানান, ব্যস্ত নগর জীবনের কারণে বছরের অন্য সময়গুলোতে এখানে আসা হয়ে ওঠে না। তবে ঈদের ছুটিকে ঘিরে তারা সুযোগ পেয়েছেন প্রিয় নেতাদের কবর জিয়ারত করার। কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছেন, কেউ ফাতেহা পাঠ করছেন, আবার কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকেও জানাচ্ছেন গভীর শ্রদ্ধা।
তবে এত বড় সমাগমের মাঝেও কিছু ভোগান্তির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট না থাকায় অনেকেই বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থানে যেখানে প্রতিনিয়ত মানুষের ভিড় থাকে, সেখানে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জিয়া উদ্যানে আগত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। এতে করে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য যেমন বাড়বে, তেমনি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মর্যাদাও আরও সুদৃঢ় হবে।
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদে জিয়া উদ্যান শুধুমাত্র একটি বিনোদন কেন্দ্র ছিল না—এটি হয়ে উঠেছিল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। হাজারো মানুষের দোয়ায় প্রতিফলিত হয়েছে এক নেতার প্রতি গভীর অনুরাগ, আর সেই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে গেছে ইতিহাসের এক নীরব, কিন্তু শক্তিশালী বার্তা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


