
সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার প্রকল্পের তালিকায় আছে মানিকগঞ্জের পদ্মা পাড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। চলতি অর্থ বছরেই এই স্টেডিয়ামের নির্মান কাজ শুরুর সম্ভবনার কথা জানান তিনি। সেই সাথে এক সপ্তাহের মধ্যে সমিক্ষা কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হবে।
শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জে পাটুরিয়া ঘাটে পদ্মা পাড়ে আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম করতে অনেক ধরনের সমীক্ষা চালাতে হয় সেটি করা হবে। এজন্য হয়তো ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো উন্নয়নে জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের যা যা করা দরকার সেটি সর্বচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা হলে বলে জানান।
স্টেডিয়ামের জায়গা নির্ধারনের জন্য আসা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, ইতিমধ্যে সংসদীয় কমিটির একাধিক সভায় গুরুত্বসহকারে পাটুরিয়ার পদ্মাপাড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মান বাস্তবায়নে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশুত প্রকল্পের অর্ন্তভুক্ত ছিলো এই স্থানে স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প। পদ্মা পাড়ের এই স্থানটি দেখে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের পছন্দ হয়েছে । পদ্মা পাড়ের সুন্দর প্রাকৃতিক নৈসর্গ ও মনোরম পরিবেশ। যেটি এই পদ্মা পাড়ে আছে। এই স্থানটিতে স্টেডিয়াম নির্মানের উজ্জল সম্ভবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এখানে শুধু স্টেডিয়াম নির্মান করা হবে না, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সকল সুযোগ সুবিধা সম্পূর্ন অবকাঠামো নির্মান করা হবে।
বিসিবি পরিচালক সংসদ সদস্য নাঈমূর রহমান দুর্জয় বলেন,আগামী ২০২৬ সালের পর থেকে আমাদের দেশে কয়েকটা চ্যাম্পিয়ান শিপ হবে। কয়েকটা ভ্যেনু পাওয়ার জন্য ও হোস্ট হওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি ক্রিকেট বোর্ড থেকে। সেই লক্ষ্যে এই সময়ের মধ্যে আমাদের স্টেডিয়ামগুলো যদি রেড়ি হয়ে যাবে।
এদিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার পদ্মা পাড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্থান পরিদর্শনে আসা অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থাকছেন, ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব , মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এ.এম.নাঈমুর রহমান দুর্জয় ,সংসদ সদস্য জাকিয়া তাবাসুম। মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মহীউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ গোলাম আজাদ খান প্রমূখ।
উল্লেখ্য ২০১৫ সালে ক্রিকেটে পাকিস্থানকে হারানোর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মা পাড়ে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মান করা হবে। সেই ঘোষনার পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের কাছে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মানের স্থান নির্ধারণ করা হয়। এলক্ষ্যে ২০১৫ সালে ১২ আগষ্ট চায়না টেষ্ট কনষ্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার করপোরেশনের সিনিয়র উপদেষ্টা সাও ঝোন ঝং এর নেতৃত্বে পাটুরিয়াঘাট ফিজিবিলিটি (সমীক্ষা ) টিম পরিদর্শন করেন। এর পর ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মাসুদ করিমের নেতৃত্বে আরো একটি টিম পদ্মা পাড়ের এই স্থানটি পরিদর্শণ করেন।
সর্ব শেষ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল শনিবার পাটুরিয়া ঘাটে এসে প্রস্তাবিত স্থানটি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন ও পদ্মা পাড়ের আন্তজার্তিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটেই হচ্ছে বলে জানান।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


