পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন যত এগোচ্ছে ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক নতুন রাজনৈতিক চিত্র। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া গণনা দুপুর ৩টা পর্যন্ত এমনটা দেখা যায়।

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি এগিয়ে আছে ১৯১টি আসনে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ৯৭টি আসনে। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস একটি করে আসনে এগিয়ে, অন্যরা তিনটিতে। এই হিসাব বলছে, এই মুহূর্তে সরকার গঠনের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেরুয়া শিবির।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলার রাজনীতিতে প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এবার দেখা যাচ্ছে ভোটারদের একাংশ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে বিজেপির অগ্রগতি এই বার্তাকে আরও জোরালো করেছে।
কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির এগিয়ে থাকা নজর কেড়েছে। পানিহাটি, মানিকতলা, বরাহনগরে বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। পানিহাটিতে আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার মা হিসেবে পরিচিত বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে। যা ইস্যুভিত্তিক ভোটের প্রভাবকে সামনে আনছে। মানিকতলায় তাপস রায় এগিয়ে, বরাহনগরে সজল ঘোষ তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পিছনে ফেলেছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও একাধিক কেন্দ্রে নিজেদের শক্তি ধরে রেখেছে। বালিগঞ্জে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, হিঙ্গলগঞ্জ ও করিমপুরে তৃণমূল প্রার্থীরা এগিয়ে থেকে লড়াইয়ে রয়েছেন।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তৃণমূলের মন্ত্রীদের ফলাফলে। অন্তত ২৩ জন মন্ত্রী নিজ নিজ কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, মানস ভুঁইয়ার মতো নেতারা। এই প্রবণতা ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেলাস্তরেও বিজেপির অগ্রগতি স্পষ্ট। কোচবিহারের সবকটি আসনে বিজেপি এগিয়ে। রানাঘাট উত্তর পশ্চিমে বিজেপি প্রার্থী বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বড়ঞা, উত্তরপাড়া, খড়গ্রামের মতো কেন্দ্রেও বিজেপি এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে। খড়গ্রামে মিতালি মাল ইতিমধ্যেই জয় পেয়েছেন। কান্দিতে বিজেপির গার্গী ঘোষ দাস তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে। এই ফলাফলগুলি দেখাচ্ছে, শহর ও গ্রাম উভয় জায়গাতেই বিজেপি নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।
তবে শুধুমাত্র ফলের প্রবণতাই নয়, উত্তেজনার ঘটনাও সামনে এসেছে। কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। কল্যাণীতেও তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনাগুলি গণনার আবহে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিকে ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল হওয়ায় সেখানে পুনরায় ভোট হবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সেই আসনের ফল পরে ঘোষণা করা হবে। যদিও সামগ্রিক ছবিতে তার প্রভাব সীমিত হতে পারে। সব মিলিয়ে দুপুর তিনটে পর্যন্ত যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা বাংলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজেপি যদি এই লিড ধরে রাখতে পারে, তাহলে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের দিকে এগোবে।
আরও পড়ুনঃ
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ ব্যবধান কমানো এবং নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখা। চূড়ান্ত ফলাফল এখনও বাকি। তবে এই মুহূর্তের চিত্র বলছে, বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে, যেখানে ভোটারদের রায়ই শেষ কথা বলবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


